কারা বিভাগকে মাদকমুক্ত রাখা এবং শৃঙ্খলাবাহিনী হিসেবে এর সুনাম বজায় রাখতে নতুন ডোপ টেস্ট নির্দেশনা জারি করেছে কারা অধিদপ্তর। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্ত ও কর্মরত উভয় পর্যায়ের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পরিস্থিতিতে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সম্প্রতি কারা পরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় জানানো হয়, কারা অধিদপ্তরের অধীন বিভাগীয় দপ্তর এবং দেশের সব কারাগারে কর্মরত সব স্তরের কর্মচারীদের জন্য ‘জৈব নমুনায় মাদকদ্রব্য শনাক্তকরণ পরীক্ষা (ডোপ টেস্ট) বিধিমালা, ২০২৬’ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কারা বিভাগে নতুন যোগদানকারী প্রত্যেক কর্মীকে চাকরিতে যোগদানের আগে ডোপ টেস্টে নেগেটিভ ফলাফল দেখাতে হবে। এছাড়া দায়িত্ব পালনরত কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে মাদক সেবনের প্রাথমিক সন্দেহ দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী বা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ তাকে ডোপ টেস্টের জন্য পাঠাতে পারবেন।
কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ডোপ টেস্টে অংশগ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। কেউ পরীক্ষা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত না হলে কিংবা পলায়নের চেষ্টা করলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিধিমালা অনুযায়ী, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির ডোপ টেস্টে পজিটিভ ফলাফল এলে তাকে চাকরির জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হবে। অন্যদিকে, কর্মরত কোনো কর্মচারীর ক্ষেত্রে পরীক্ষার ফল পজিটিভ হলে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ এবং ‘কারা বিধি’ অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া কোনো কর্মচারীকে মাদকাসক্ত হিসেবে শনাক্ত করা হলে তাকে সরকারের নির্ধারিত পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। নির্ধারিত চিকিৎসা বা পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশ নিতে অস্বীকৃতি কিংবা অবহেলা করলে সেটিও পৃথক শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
নির্দেশনাটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশের সব কারাগারে রোলকল ও দরবারে নিয়মিত তা পাঠ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছে কারা অধিদপ্তর।
সান নিউজ/ জামান
