ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতৃত্ব আনার পক্ষে মত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেছেন, জেলেনস্কি যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছেন। এদিকে রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কেনার বিষয়ে ট্রাম্পের ঘোষিত চুক্তিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন, কিয়েভ ও মস্কোর সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় এসেছে। তাঁর দাবি, রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলার প্রভাব বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহের ওপর পড়ছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক ও খামারিরাও জ্বালানি নিয়ে সমস্যায় পড়ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্পের এ বক্তব্যের জবাবে জেলেনস্কির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ইউক্রেনের জনগণ জেলেনস্কির পাশে রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের নেতৃত্ব কে দেবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ইউক্রেনের জনগণের বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ডিজেল কেনার চুক্তির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতা এবং ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে জেলেনস্কির অভিযোগ, রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পর দেশটির বাহিনী ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া শহরের আবাসিক ভবনে হামলা চালিয়েছে। তাঁর দাবি, ওই হামলায় তিন শিশুসহ ২০ জন নিহত হয়েছেন। এর আগে বুধবার (৭ অক্টোবর) ও বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাশিয়ার হামলায় ক্রামাতোরস্ক ও প্রিলুকি শহরেও বহু বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে বলে তিনি জানিয়েছেন।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, জেলেনস্কি চাইলে আগেই রাশিয়ার সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে পারতেন। অন্যদিকে জেলেনস্কির আশঙ্কা, রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ কমিয়ে দেওয়া হলে মস্কো ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আরও হামলা চালানোর সুযোগ পাবে।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জোরদারের বিষয়ে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জেলেনস্কির মতে, রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি থেকে অতিরিক্ত আয় দেশটির অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদনে ব্যবহৃত হতে পারে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং যুদ্ধবিমানের জন্য প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ সংগ্রহের বিষয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
সান নিউজ/ রাব্বি
