সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো সময় এর ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। রোববার (১৬ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মুখ্য সচিব বলেন, নবম পে-স্কেলের খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য সচিব কমিটি নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করেছে। এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।
তিনি জানান, দীর্ঘ ১১ বছর নতুন কোনো বেতন কাঠামো না থাকায় প্রায় ১৮ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যে রয়েছেন। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষের ওপর কিছুটা চাপ তৈরি হলেও সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় এটি প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে।
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেন, সরকারের সামনে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অর্থনীতি। এ সংকট মোকাবিলায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং বিগত সরকারের সময়ে বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা গড়ে না তোলার কারণে সংকট আরও বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাশিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি সংগ্রহের মাধ্যমে বহুমুখী সরবরাহব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা চলছে।
মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল প্রসঙ্গে মুখ্য সচিব বলেন, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়।
এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটি নবম পে-স্কেলের প্রস্তাবটি নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়া গেলে চলতি সপ্তাহেই এটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে।
প্রস্তাবিত কাঠামোতে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে। তবে সব গ্রেডে একই হারে বেতন না বাড়িয়ে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি হারে বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
খসড়া অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়ানো এবং পরবর্তী ধাপে ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। চলতি বছরের জুলাই থেকে আংশিক বাস্তবায়ন শুরু করে ধাপে ধাপে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে পুরো কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে কত ধাপে এটি বাস্তবায়ন হবে, সে সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।
এদিকে পে-স্কেল চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় বিচার বিভাগ-সংক্রান্ত কিছু জটিলতা দেখা দেওয়ায় তা সমাধানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ সময় নতুন বেতন কাঠামো না থাকায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন পে-স্কেলের দাবি জোরালো হয়। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম পে কমিশন সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছিল।
মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই নতুন পে-স্কেলের বাস্তবায়ন পদ্ধতি, সময়সূচি ও বেতন কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি
