২০২৪ সালের কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন একপর্যায়ে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। নিপীড়ন, দুর্নীতি, বৈষম্য, দখলদারত্ব এবং অবৈধ ক্ষমতার বিরুদ্ধে সংঘটিত ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলনের মুখে পতন ঘটে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের। বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক আগামীর বাংলাদেশ গড়ার এ আন্দোলনে ঝালকাঠির রাস্তায় নেমেছিলেন হাজারো ছাত্র-জনতা।
৫ আগস্ট ২০২৪ ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে অবসান ঘটে তার টানা ১৭ বছরের শাসনের।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪ সালের ১ জুলাই কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুতই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলন দমাতে মাঠে নামে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণে আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধসহ অনেকের প্রাণহানির পর সরকার পতনের এক দফা আন্দোলন শুরু হয়।
আন্দোলনের শুরুর দিকে ঝালকাঠিতে বড় পরিসরে কর্মসূচি না হলেও ৩ আগস্ট ছাত্র-জনতা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। প্রবল বাধা ও প্রতিরোধের মধ্যেও ৪ আগস্ট তারা জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। একপর্যায়ে সরকার সমর্থকদের পিছু হটতে হয় এবং পরে অনেকেই এলাকা ছেড়ে চলে যান।
৫ আগস্ট সকাল থেকেই ঝালকাঠির রাজপথ ছাত্র-জনতার দখলে চলে আসে। দুপুরে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা স্বৈরাচারের আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর স্থানীয় বাসভবনে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেখান থেকে দেশি-বিদেশি মুদ্রাসহ প্রায় ৫ কোটিরও বেশি নগদ অর্থ উদ্ধার হওয়ার দাবি করা হয়।
চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে জেলার বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করতে অন্যদের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন, জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমানসহ আরও অনেকে।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনে অংশ নিয়ে ঝালকাঠির ১০ জন প্রাণ হারান।
সান নিউজ/ জামান
