ঢাকার কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা এলাকায় রাজউকের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঝুঁকিপূর্ণ একটি ভবনের নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে নির্মাণকাজ বন্ধে দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজউকের পরিদর্শক আব্দুল আলিমের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের সূত্রপাত পশ্চিম নামাবাড়ী, জিঞ্জিরা এলাকার একটি প্লটে মিসেস সামিরার নির্মাণাধীন ভবনকে ঘিরে। গত ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে রাজউকের জোন-৫-এর অথোরাইজড অফিসার-৫/৩ মো. রকিবুল হাসান স্বাক্ষরিত এক কারণ দর্শানোর নোটিশে ওই নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
রাজউকের নোটিশে বলা হয়, রাজউকের মহাপরিকল্পনাভুক্ত এলাকার আওতাধীন মৌজা-জিঞ্জিয়া, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওই প্লটে ইমারত নির্মাণ করা হচ্ছে। ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী নির্মাণকাজ শুরুর ১৫ দিন আগে ৩০৭ নম্বর ফরমের মাধ্যমে রাজউককে অবহিত করার নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি।
এ ছাড়া নির্মাণকাজের অনুমোদিত নকশা ও অনুমোদনপত্র সাইটে সংরক্ষণ না করা এবং ভবনের দৃশ্যমান স্থানে অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণসংক্রান্ত তথ্য সম্বলিত সাইনবোর্ড না থাকার বিষয়টিও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
নোটিশে ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২-এর ৩ ধারা অনুযায়ী ভবনটি কেন অবৈধ ঘোষণা করে অপসারণের আদেশ দেওয়া হবে না—এ বিষয়ে সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়। একই সঙ্গে বিষয়টির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই স্থানে সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে রাজউকের নির্দেশনার পরও সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে নির্মাণকাজ চলমান থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নিষেধাজ্ঞা জারির পরও শ্রমিক দিয়ে ভবনের কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এদিকে নির্মাণকাজ বন্ধের বিষয়টি তদারকির দায়িত্বে থাকা রাজউকের পরিদর্শক আব্দুল আলিমের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার যোগসাজশেই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজউকের পরিদর্শক আব্দুল আলিম। তিনি বলেন, নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিদিন গিয়ে সাইট পরিদর্শন করা সম্ভব নয়। অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
অন্যদিকে, ভবন মালিক মিসেস সামিরার বক্তব্য জানতে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সান নিউজ/ হুমায়রা
