কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের আমানতপুর গ্রামে এক কৃষকের ফলজ ও বনজ বাগানের ১৫টি গাছ রাতের অন্ধকারে কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। গত ৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে আইলচারা মৌজায় এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক জান মোহাম্মদ (৫২) বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আমানতপুর গ্রামের মৃত ইমারত মালিথার ছেলে জান মোহাম্মদ তার মালিকানাধীন আইলচারা মৌজার এস.এ ৬৭২নং খতিয়ানের ১০ শতক জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বাগান করে আসছেন। পূর্ব শত্রুতা ও জমি দখলের কু-মতলবে একই এলাকার জুমারত মালিথার ছেলে শরিফুল ইসলাম (৪০), মহিবুল ইসলাম (৪৮) ও রোহিত আলী (৫২) নামের তিন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তাকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছিল।
ভুক্তভোগী জান মোহাম্মদ জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে বিবাদীগণ দেশীয় ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার বাগানে অনধিকার প্রবেশ করে ১০টি মেহগনি ও ৫টি আম গাছ কেটে সাবাড় করে দেয়। ঘটনার সময় বিবাদীগণের হাতে ধারালো অস্ত্র থাকায় এবং প্রাণনাশের ভয়ে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে বাধা দিতে পারেননি। এতে তার লক্ষাধিক টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ৪ বছর ধরে তিনি এই জমিতে যখনই কোনো বাগান বা ফসল ফলানোর চেষ্টা করেছেন, তখনই রাতের অন্ধকারে তা কেটে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। বিবাদীগণ সম্পর্কে তাদের দূর সম্পর্কের শরীক এবং তাদের জমিটি জান মোহাম্মদের জমির পেছনে হওয়ায়, যাতায়াতের রাস্তা বের করা ও জমিটি জোরপূর্বক দখল করার উদ্দেশ্যেই তারা বারবার এই ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটাচ্ছে। বর্তমানে গাছ কাটার পর বিবাদীগণ ভুক্তভোগী ও তার ভাইদের প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে আরও একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। গাছ কাটার এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এই বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, গাছ কাটা ও হুমকির বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আমার বাঙলা/আরএ
