ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব মণ্ডপে মহা সপ্তমীর সন্ধ্যায় ঘটে গেছে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। অতিরিক্ত ভিড়, বৃষ্টি থেকে বাঁচতে মানুষের হুড়োহুড়ি, মণ্ডপের সরু অলিগলি এবং পর্যাপ্ত জনবল ব্যবস্থাপনার অভাবে সৃষ্ট পদদলিত হওয়ার ঘটনায় অন্তত ১৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
এছাড়া গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অনেকে, যাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আনন্দ-উৎসবের এই দিনে এমন ট্র্যাজেডিতে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে খোলা জায়গা থেকে শত শত দর্শনার্থী নিজেদের বাঁচাতে চোরবাগান মণ্ডপের ভেতর আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। আগে থেকেই ভেতরে থাকা লোকজন বাইরে বের হতে অস্বীকৃতি জানালে এবং নতুন মানুষের স্রোত একযোগে প্রবেশদ্বারে হুমড়ি খেয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে তীব্র ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়।
মানুষে মানুষে চাপা পড়ে অনেকেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, যা মুহূর্তের মধ্যে এক ভয়াবহ পদদলিত হওয়ার পরিস্থিতিতে রূপ নেয়। মণ্ডপের প্রবেশ ও বাহির হওয়ার পথগুলো অত্যন্ত সংকীর্ণ থাকায় এবং পর্যাপ্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত হাতের বাইরে চলে যায় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শুরু হয়েছে। ঘটনার জেরে পুলিশ প্রশাসন ও আয়োজক কমিটির গাফিলতির অভিযোগ তুলে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে কলকাতা হাইকোর্টের একজন বর্তমান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনার পেছনে শাসকদল ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক দোষারোপের রাজনীতিও বেশ তীব্র আকার ধারণ করেছে।
দুর্ঘটনার পর হতাহতদের পরিবারকে সহায়তা প্রদান এবং উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের জনবহুল উৎসবে সাধারণ মানুষের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও কঠোর নজরদারি ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকেরা।
সান নিউজ / রাজীব
