ফুটবল পরাশক্তি ও ঐতিহ্যবাহী দেশ ওয়েলসের বিপক্ষে দারুণ লড়াকু মানসিকতা প্রদর্শন করেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ দল। আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধনী ম্যাচে শক্তিশালী ইউরোপীয় প্রতিপক্ষকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়েছে বায়েজিদ-শ্রীনাথরা।
এর মাধ্যমে মর্যাদাপূর্ণ এই বৈশ্বিক আসরে মূল্যবান এক পয়েন্ট অর্জনের তৃপ্তি নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশের কিশোররা।
আজারবাইজানের রাজধানী বাকুর হোভসান কম্পিটিশন কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দুই দলের কেউই গোলের দেখা পায়নি। ফিফার উদ্যোগে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই মেগা টুর্নামেন্টে বিশ্বের ১৯১টি দেশ অংশ নিচ্ছে।
তরুণ ফুটবলারদের প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বিশেষ প্রতিযোগিতায় প্রতিটি দলে ৮ জন করে খেলোয়াড় মাঠে নামছেন। ম্যাচগুলোর জন্য ৬৮ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৪৮ মিটার প্রস্থের বিশেষ ছোট আকারের মাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে ২০ মিনিট করে দুই অর্ধে মোট ৪০ মিনিট খেলা পরিচালিত হয়।
‘জি’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে ইউরোপের আরেক শক্তিশালী দল পর্তুগাল, এশিয়ার ইন্দোনেশিয়া, ওশেনিয়ার ফিজি এবং আফ্রিকার বুরুন্ডি। উদ্বোধনী দিনের গ্রুপ পর্বের অন্য ম্যাচে বুরুন্ডিকে পরাজিত করে পয়েন্ট টেবিলের লড়াইয়ে এগিয়ে গেছে প্রতিপক্ষরা।
এক নজরে ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যাল
আয়োজক দেশ : আজারবাইজান (বাকু)
অংশগ্রহণকারী দেশ : বিশ্বের মোট ১৯১টি দল
ফরম্যাট : ৮ জনের দল, ৬৮×৪৮ মিটার মাঠের আকৃতি
ম্যাচ সময় : দুই অর্ধে মোট ৪০ মিনিট
গ্রুপ ‘জি’ প্রতিপক্ষ: ওয়েলস, পর্তুগাল, ইন্দোনেশিয়া, ফিজি ও বুরুন্ডি
বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচের ফল : ওয়েলসের সাথে ০-০ গোলে ড্র
পরবর্তী ম্যাচ: আগামীকাল রোববার এক দিনেই দুটি ম্যাচ (সকালে পর্তুগাল ও রাতে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে)
ইউরোপের ঐতিহ্যবাহী দল ওয়েলসের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্রয়ের পর দলের কোচ আকবর হোসেন রিডন ফলাফল নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলেও পারফরম্যান্সের সামগ্রিক চিত্র নিয়ে পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই।
তিনি জানান, উদ্বোধনী ম্যাচে ছেলেরা পুরোপুরি নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারেনি। বিশেষ করে আক্রমণ সাজানোর বা বিল্ড-আপের প্রক্রিয়ায় বারবার ভুল হয়েছে এবং দল সবচেয়ে সহজ একটি গোল করার সুযোগ হাতছাড়া করেছে।
সামনের কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর কথা উল্লেখ করে কোচ আরও যোগ করেন, কাল এক দিনে দলকে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে হবে। সকালে শক্তিশালী পর্তুগাল এবং রাতে ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে দল। যেহেতু মাঝখানে অনুশীলনের কোনো সুযোগ নেই, তাই ক্লাসরুম সেশনের মাধ্যমে আজকের ম্যাচের ভুলত্রুটিগুলো শুধরে নিয়ে মাঠে নামবে দল।
অন্যদিকে, দলের গোলরক্ষক শ্রীনাথ সরদার ওয়েলসের আক্রমণভাগকে সামলে ক্লিনশিট ধরে রাখতে পারায় বেশ উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, শারীরিক সামর্থ্য ও উচ্চতায় ওয়েলস দল এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশ দারুণ লড়াই করেছে। প্রথম ম্যাচে গোল হজম না করে জাল অক্ষত রাখা বড় প্রাপ্তি।
এই আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও ম্যাচ বাই ম্যাচ পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চান তারা।
আগামীকালের জোড়া ম্যাচ সফলভাবে পার করতে পারলে ফিফার এই বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের দল নকআউট বা পরবর্তী ধাপের লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সান নিউজ / রাজীব
