পাইপলাইনের গ্যাসের সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর রান্নার প্রধান জ্বালানি হলো তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতের ব্যয় মেটানোর পর রান্নার জ্বালানিতে বাড়তি অর্থ ব্যয় করা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এলপিজির বিদ্যমান মূল্য আদেশ কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।
ক্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আমদানিকারকদের ব্যয় বৃদ্ধির দাবিগুলো প্রকৃত লেনদেনের নথি ও নিরীক্ষিত হিসাবের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বাড়লেই দেশের অভ্যন্তরে পরিবহণ, সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যয় একই হারে বৃদ্ধি পায় না। তাই আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির অজুহাতে সব পর্যায়ে চার্জ ও কমিশন বাড়ানোর যৌক্তিকতা নেই। একই ব্যয় একাধিকবার হিসাবের অন্তর্ভুক্ত করা কিংবা পরিচালনাগত অদক্ষতার দায় ভোক্তাদের ওপর চাপানোও গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
এ অবস্থায় এলপিজির দাম ও সংশ্লিষ্ট চার্জ নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় সাত দফা দাবি উত্থাপন করেছে ক্যাব।
ক্যাবের সাত দফা দাবি
১. নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করা: এলপিজির মূল্য ও সংশ্লিষ্ট চার্জ না বাড়িয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামে ভোক্তাপর্যায়ে সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
২. কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত মূল্য আদায় বন্ধ: মজুত গোপন, সরবরাহ সীমিত করা, কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করতে হবে। দায়ী অপারেটর, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল করতে হবে।
৩. চার্জ ও কমিশন বৃদ্ধির যৌক্তিকতা যাচাই: নিরীক্ষিত হিসাব ও নিরপেক্ষ কারিগরি মূল্যায়নের মাধ্যমে ব্যয় বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত চার্জ ও কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করা যাবে না। অযৌক্তিক ব্যয় ও অতিরিক্ত মুনাফা মূল্য নির্ধারণের হিসাব থেকে বাদ দিতে হবে।
৪. ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ: এলপিজি আমদানি, মজুতকরণ, বোতলজাতকরণ ও বিতরণ বাবদ ব্যয়ের পৃথক হিসাব প্রকাশ করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যয় কমলে তার সুফল দ্রুত ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
৫. সরকারি এলপিজি সাশ্রয়ী করা: সরকারি এলপিজির ব্যয় পৃথকভাবে মূল্যায়ন করে স্বচ্ছ বরাদ্দ ও বিতরণব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
৬. মূল্যতালিকা ও রসিদ বাধ্যতামূলক করা: প্রতিটি বিক্রয়কেন্দ্রে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং বিক্রির বিপরীতে রসিদ দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। পরিবহণ ও বাসায় পৌঁছে দেওয়ার চার্জ সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে অননুমোদিত অর্থ আদায় বন্ধ করতে হবে।
৭. অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি: অতিরিক্ত দাম আদায়, সিলিন্ডার না পাওয়া, কম ওজন এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত সমস্যা জানানোর সহজ ব্যবস্থা চালু করতে হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে হবে।
গণশুনানিতে স্বচ্ছ সিদ্ধান্তের আহ্বান
ক্যাব এলপিজির মূল্য নির্ধারণসংক্রান্ত গণশুনানিতে আবেদনকারীদের প্রস্তাব, কমিশনের কারিগরি মূল্যায়ন এবং ভোক্তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সংগঠনটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে কোন কোন ব্যয় গ্রহণ বা বাদ দেওয়া হয়েছে এবং উত্থাপিত আপত্তিগুলো কীভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছে, তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।
ক্যাবের প্রত্যাশা, মূল্য ও চার্জ বাড়ানোর পরিবর্তে নির্ধারিত দামে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করা, কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধ এবং অতিরিক্ত মূল্য আদায় বন্ধে বিইআরসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
সান নিউজ/ রাব্বি
