ঝিনাইদহে এক ফুটবল টুর্নামেন্ট শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন নবগঠিত এনসিপি কমিটি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, দলটির সাম্প্রতিক সাংগঠনিক বিন্যাসে আদর্শিক ভারসাম্য রক্ষা করা হয়নি; বরং জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে এবং ভিন্নমতের বা স্বতন্ত্র অবস্থানের নেতাদের গুরুত্ব কমিয়ে রাখা হয়েছে।
আজ শুক্রবার বিকেলে শহরের কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও কাউন্সিল ছাড়াই নেতৃত্ব নির্বাচন করায় এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে দলটির বিভিন্ন নেতার সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি মন্তব্য করেন, বিএনপি যেখানে জাতীয়তাবাদী দর্শনের ভিত্তিতে রাজনীতি করে, সেখানে এনসিপি কোন আদর্শ ধারণ করছে তা স্পষ্ট নয়।
রাশেদ খাঁনের দাবি, দলের নেতৃত্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে এমন কিছু ব্যক্তিকে আনা হয়েছে যাদের বিরুদ্ধে অতীতে নানা বিতর্ক ও অভিযোগ রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নৈতিক ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বকে যথাযথ মূল্যায়ন না করে বিতর্কিতদের সামনে আনা হয়েছে।
এনসিপির নেতৃত্ব গঠনে জামায়াতের প্রভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। তার মতে, কোনো রাজনৈতিক দলকে যদি অন্য একটি দলের অনুমোদন বা সমর্থনের ওপর নির্ভর করে সাংগঠনিক কাঠামো সাজাতে হয়, তবে সেই দলের স্বাধীন রাজনৈতিক পরিচয় প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।
আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি বলেন, জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর মাধ্যমে এনসিপি এমন এক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছে, যা দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী শক্তির সঙ্গে সখ্যতার ইঙ্গিত বহন করে। এ কারণে দলটির শীর্ষ নেতাদের নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান জনগণের সামনে পরিষ্কার করার পরামর্শ দেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। তার অভিযোগ, ধর্মীয় আবেগকে কেন্দ্র করে মানুষকে যে বার্তা দেওয়া হয়, তা বাস্তবে বিভ্রান্তিকর এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণার শামিল।
অনুষ্ঠানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপির নেতাকর্মী, ছাত্রদলের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সান নিউজ / রাজীব
