ক্রীড়া প্রতিবেদক
জাপানের আইচি ও নাগোয়াতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসের নারী ফুটবলে নজিরবিহীন এক লজ্জার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে রীতিমতো গোলবন্যায় ভেসে গেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এ ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ, যা নারী ফুটবলে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হারের নতুন রেকর্ড। এর আগে ২০১৩ সালে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ৯-০ গোল ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পরাজয়।
প্রথমার্ধেই গোল উৎসব, দিশেহারা রক্ষণভাগ : ম্যাচের শুরু থেকেই মুহুর্মুহু আক্রমণে বাংলাদেশকে কোণঠাসা করে রাখে উত্তর কোরিয়া। শারীরিক শক্তি, ফুটবলীয় দক্ষতা এবং মাঠের কৌশল—সব বিভাগেই আধিপত্য বিস্তার করে তারা বল নিয়ে ছেলেখেলা করতে থাকে। খেলার গতি এতটাই দ্রুত ছিল যে, প্রথম ১১ মিনিটেই ৩ গোল হজম করে বাংলাদেশ। আর ২০ মিনিট পার হতে না হতেই ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-টিতে। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই বাংলাদেশের জালে মোট ৭ বার বল জড়ায় উত্তর কোরিয়ান ফরোয়ার্ডরা। বিরতির পর কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে গোলবন্যার গতি কমানো গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
একাদশে চমক ও কৌশলী পরিবর্তন ব্যর্থ : এদিন ম্যাচের শুরুর একাদশেই বড় চমক দেখান কোচ পিটার বাটলার। দলের অন্যতম সেরা ও পরীক্ষিত দুই তারকা ঋতুপর্ণা চাকমা এবং মনিকা চাকমাকে ছাড়াই দল মাঠে নামান তিনি। তবে মারিয়া মান্ডার নেতৃত্বাধীন দলটি শুরু থেকেই দিশেহারা হয়ে পড়ায় কোচ বাধ্য হন বদলি হিসেবে ঋতুপর্ণা ও মনিকাকে মাঠে নামাতে। কিন্তু গোলের ব্যবধান ও উত্তর কোরিয়ার আগ্রাসী অ্যাটাক থামানোর জন্য সেই পরিবর্তন যথেষ্ট ছিল না।
উত্তর কোরিয়ার গোলদাতাদের তালিকা : বাংলাদেশের বিপক্ষে উত্তর কোরিয়ার বিশাল এই জয়ে জোড়া গোল করে মূল ভূমিকা রাখেন জোন রিয়ং জং (৫ ও ১০ মিনিট), চে উন সং (১৮ ও ৩৫ মিনিট) এবং কিম কিওং সং (৪০ ও ৪৩ মিনিট)। বাকি চারটি গোলের মধ্যে প্রথমার্ধে একটি করেন হওয়াং ইউ সং (১২ মিনিট)। আর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়িয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন রি সং আ (৫১ মিনিট), জং কুম (৬০ মিনিট) এবং ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে (৯০ মিনিট) গোল করা হান জিন সং। এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরে এই রেকর্ড পরাজয় বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের জন্য এক বড় ধাক্কা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে এই ম্যাচ থেকে ভুলগুলো শুধরে সামনে এগোতে হবে বাফুফেকে।
