নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রযুক্তি উন্নয়ন প্রকল্প ‘আইডিইএ-২’-এ ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুস লেনদেনের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সার্ভার ব্যবস্থাপনার জন্য আইটি যন্ত্রাংশ কেনাকাটার পুরো প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি অর্থে ক্রয়কৃত সার্ভার ও ল্যাপটপের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সরবরাহে ব্যাপক ঘাটতি, নিম্নমানের রিফার্বিশড পণ্য সরবরাহ এবং সরবরাহ না করেই বিল উত্তোলনের মতো গুরুতর অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।
একটি তদন্ত কমিটি জানায়, নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় মাদারবোর্ড, হার্ডডিস্ক, এসএসডি, র্যাম ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ অনেক কম সরবরাহ করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সরবরাহকৃত পণ্য নতুন না হয়ে পুরোনো ও পুনঃসংস্কারকৃত (রিফার্বিশড) ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তদন্তে আরও উঠে আসে, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো, সিন্ডিকেট গঠন এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের বিষয়। কয়েকজন প্রকল্প কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন ঘুস হিসেবে গ্রহণের প্রমাণ পাওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম উঠে এসেছে তদন্ত প্রতিবেদনে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও পরবর্তীতে নেওয়া অর্থ ফেরত দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টিমওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সল্যুশন টেন্ডার কারসাজির মাধ্যমে কাজ পেয়েছে এবং চুক্তি অনুযায়ী সম্পূর্ণ সরবরাহ না করেই বিল আদায় করেছে। এ ছাড়া প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ ও চ্যাট রেকর্ডের মাধ্যমে যোগসাজশের প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
প্রকল্প পরিচালকও জানিয়েছেন, অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বেতন-ভাতা স্থগিত করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শুধু কেনাকাটায় নয়, সরবরাহকৃত যন্ত্রাংশ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও জালিয়াতি করা হয়েছে। বিভিন্ন জেলা নির্বাচন অফিসে এসব যন্ত্রাংশ স্থাপনের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত দল উল্লেখ করেছে।
