বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নকআউট পর্বে শক্তিশালী ব্রাজিলের বিপক্ষে দারুণ লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হয়েছে জাপানকে। ম্যাচের প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের ব্যবধানে হার মানে এশিয়ার প্রতিনিধিরা। তবে ফলাফল হতাশাজনক হলেও দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট জাপানের প্রধান কোচ হাজিমে মোরিয়াসু।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মোরিয়াসু বলেন, ব্রাজিলের মতো বিশ্বসেরা দলের বিপক্ষে তাদের দল আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছে। তার বিশ্বাস, বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে জাপানের ব্যবধান ধীরে ধীরে কমে আসছে।
তার ভাষায়,
"ব্রাজিল বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। তাদের বিপক্ষে আমরা যেভাবে লড়াই করেছি, তা প্রমাণ করে আমরা সেই উচ্চতায় পৌঁছানোর পথে এগিয়ে যাচ্ছি।"
প্রথমে এগিয়েও শেষ পর্যন্ত হার
ম্যাচের ২৯তম মিনিটে কাইশু সানোর গোলে এগিয়ে যায় জাপান। প্রথমার্ধে সেই ব্যবধান ধরে রাখলেও দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় ব্রাজিল।
৫৬তম মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে দুর্দান্ত হেডে সমতা ফেরান অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরো। এরপর ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছে, ঠিক তখনই বদলি হিসেবে নামা গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি জয়সূচক গোল করে ব্রাজিলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলে দেন।
স্বপ্ন ভাঙলেও হাল ছাড়তে রাজি নন মোরিয়াসু
এবারের বিশ্বকাপে জাপানের লক্ষ্য ছিল শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা। কিন্তু শেষ ষোলোর বাধা পেরোতে না পারায় হতাশ কোচ নিজেই দায় স্বীকার করেছেন।
মোরিয়াসু বলেন,
"বিশ্বকাপ জেতাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। প্রধান কোচ হিসেবে আমি খেলোয়াড়দের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি। আমি তাদের কাঙ্ক্ষিত জায়গায় নিয়ে যেতে পারিনি।"
তবে একই সঙ্গে তিনি ফুটবলারদের হতাশ না হয়ে ভবিষ্যতের জন্য আরও শক্তভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।
ইতিহাস বদলাল ব্রাজিল
এই ম্যাচে শুধু জাপানের বিশ্বকাপ অভিযানই শেষ হয়নি, ভেঙেছে ব্রাজিলের একটি দীর্ঘদিনের পরিসংখ্যানও।
২০০২ সালের বিশ্বকাপের পর নকআউট পর্বে পিছিয়ে পড়ে আর কখনও জিততে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। জাপানের বিপক্ষে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে সেই অপেক্ষারও অবসান ঘটিয়েছে সেলেসাওরা।
অন্যদিকে এটি ছিল জাপানের অষ্টম বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ। তবে এখনো পর্যন্ত নকআউট পর্বে জয় তুলে নেওয়ার অপেক্ষা শেষ হলো না তাদের।
ম্যাচের আগেই আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে রেখেছিলেন মোরিয়াসু
ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচের আগে জাপান কোচ হাজিমে মোরিয়াসু বিশ্ব ফুটবলের বর্তমান সেরা দল হিসেবে আর্জেন্টিনার নাম উল্লেখ করেছিলেন। যদিও ব্রাজিলের শক্তি ও অভিজ্ঞতার প্রতিও তিনি পূর্ণ সম্মান জানিয়েছিলেন।
বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও জাপানের লড়াকু মানসিকতা এবং ব্রাজিলের বিপক্ষে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের জন্য নতুন আশার বার্তা হয়ে থাকল।
