সংযুক্ত আরব আমিরাতের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে হামলা হয়েছে। এ হামলা ও আগুনের জন্য ইরান কিংবা ইরানের সহযোগীদের কেউ একজন দায়ী বলে মনে করছে আমিরাত। এ হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি।
আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, রোববার (১৭ মে) আবুধাবির আল-ধাফরা অঞ্চলে অবস্থিত বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সীমানার বাইরে একটি ড্রোন আঘাত হানে। এ ঘটনায় ওই কেন্দ্রের জেনারেটরে আগুন ধরে যায়। এ হামলায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
আমিরাতের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, আরব উপদ্বীপের প্রথম নির্মিত এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম হামলায় ব্যাহত হয়নি। তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে। জনজীবনে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই।
এ বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ বলেন, আমি বিশ্বাস করি, হামলার পেছনে ইরান কিংবা দেশটির আঞ্চলিক সহযোগীদের কেউ জড়িত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আনোয়ার আরও বলেন, ‘বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে এ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা মূল হামলাকারী কিংবা তার কোনো এজেন্টের মাধ্যমে হোক না কেন, সেটা এই এলাকার চলমান উত্তেজনা মারাত্মকভাবে বাড়াবে।’
এ হামলাকে ‘আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মের লঙ্ঘনের অশুভ রূপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন আনোয়ার। এর পেছনে দায়ীদের বিরুদ্ধে বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি উদাসীনতা দেখানোর অভিযোগ তোলেন তিনি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান সৌদি আরবসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠলেও সৌদি আরব এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসিকে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলার বিষয়টি বিশদ জানিয়েছেন। আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্রোসিকে জানিয়েছেন, এমন ‘সন্ত্রাসী হামলার’ জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার তার দেশের রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে আইএইএ জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় রাফায়েল গ্রোসি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘পারমাণবিক নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ সামরিক কার্যকলাপ পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।’
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে আঘাত হানা ড্রোনটি সেই তিনটি ড্রোনের একটি ছিল, যেগুলো পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে দেশের ভেতরে ঢুকেছে।
হামলার ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। হামলার উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে দুই হাজার কোটি ডলার খরচ করে বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। ২০২১ সালে এ কেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যায়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিদ্যুতের মোট চাহিদার প্রায় ২৫ শতাংশ এ কেন্দ্র পূরণ করে।
সাননিউজ/আরএ
