শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেহাল দশা এবং সরকারি উদাসীনতার বিরুদ্ধে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ফ্রান্সের রাজপথ। শিক্ষার্থীদের চলমান এই দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে দেশটির বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন এবং কট্টর ডানপন্থি রাজনৈতিক দল ‘ফ্রান্স আনবাওড’-এর নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা নতুন করে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন।
রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে আজ মঙ্গলবার হাজার হাজার মানুষ মিছিলে অংশ নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে কয়েকটি স্থানে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের তীব্র সংঘর্ষ ও ধরপাকড়ের ঘটনা ঘটে।
শিক্ষার্থীদের অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ
চলতি সপ্তাহের শেষেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘হাফ-টার্ম’ বা মধ্যবর্তী ছুটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারি নীতিনির্ধারকরা ধারণা করেছিলেন, ছুটির সুবাদে হয়তো চলমান আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়ে আসবে। তবে সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে শিক্ষার্থীরা আরও জোরালো অবস্থান নেন।
আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকের সামনে আবর্জনার স্তূপ ও নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে প্রবেশপথ আটকে দেন তারা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ বাধে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রকাশিত তথ্য ও ছবিতে প্যারিস, লিঁও, ব্রেস্ত, নাঁত, মার্সেই এবং সেন-সাঁ-দনি শহরের বিভিন্ন সড়কে টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ, ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চিত্র দেখা গেছে। শীর্ষস্থানীয় ছাত্র সংগঠন ‘ইউনিয়ন এতুদিয়ন্ত’ জানিয়েছে, চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে বর্তমানে দেশের প্রায় ৭০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯০ শতাংশই পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
গ্রেটা থুনবারগের সংহতি ও ক্ষোভ প্রকাশ
ফ্রান্সের এই ছাত্র বিক্ষোভে আন্তর্জাতিক সংহতি জানাতে যোগ দিয়েছিলেন সুইডিশ তরুণ জলবায়ুকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। প্যারিসের উপশহর সাঁ-দনিতে ফরাসি বার্তা সংস্থার সঙ্গে আলাপকালে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের কথা শোনার বা তাদের মতামতকে ন্যূনতম গুরুত্ব দেওয়ার কোনো মানসিকতাই ফরাসি প্রশাসনের নেই। যুবসমাজ তাদের নিজস্ব ভবিষ্যৎ নির্মাণের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন এই প্রখ্যাত পরিবেশকর্মী।
আসন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ছুটির পরের প্রস্তুতি
বর্তমান প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের জন্য দেশটিতে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এমন একটি সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে এই ছাত্র বিক্ষোভ সরকারের জন্য বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে আয়োজিত বিক্ষোভে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেসময় প্রায় ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। তবে আন্দোলন থামার কোনো লক্ষণ নেই। মার্সেই শহরের এক ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী গণমাধ্যমকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, আসন্ন মধ্যবর্তী ছুটি শেষ হওয়ার পর তারা আরও বড় পরিসরে এবং নতুন প্রস্তুতি নিয়ে রাজপথে ফিরে আসবে।
সান নিউজ / রাজীব
