অবশেষে ১৩৮ ওভার ব্যাট করার পর বাংলাদেশকে অলআউট করতে সক্ষম হলো অস্ট্রেলিয়া। ৪২৬ রানে থামল বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। ফলে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ২২৮ রানের বড় লিড পেয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এর মধ্য দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের ইতিহাসে বিরল এক কীর্তিও গড়েছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের মূল কারিগর ছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ১০১ রানের সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ৮৪ রান। শেষ দিকে মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস বাংলাদেশকে চারশ ছাড়ানো সংগ্রহ এনে দেয়।
এর আগে প্রথম দিনে হাসান মাহমুদের বিধ্বংসী বোলিংয়ে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ৫৫ রান খরচায় ৬ উইকেট নেন হাসান। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রান করেন স্টিভেন স্মিথ।
অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪২৬। ফলে লিড দাঁড়িয়েছে ২২৮ রানে। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে এর চেয়ে বড় লিড এসেছে মাত্র দুবার।
২০০ রানের বেশি লিড পাওয়ার ঘটনাও বাংলাদেশের জন্য খুব বেশি নয়। এর আগে এমন লিড এসেছিল মোট তিনবার। ২০২৩ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ পেয়েছিল ৩০১ রানের লিড। ২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে লিড ছিল ২৯৫ রানের। আর ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২১৭ রানের লিড পেয়েছিল বাংলাদেশ।
অর্থাৎ এতদিন টেস্টে নিজেদের চেয়ে তুলনামূলক নিচের সারির দল জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেই বড় লিডের কীর্তি গড়েছিল বাংলাদেশ। এবার সেই তালিকায় যোগ হলো শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার নাম।
পরিসংখ্যান আরও আশাব্যঞ্জক। এর আগে ২০০ রানের বেশি লিড পাওয়া তিনটি টেস্টেই জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। ফলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চলমান টেস্টেও সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির স্বপ্ন দেখতেই পারে শান্তর দল।
প্রথম তিন দিনে ব্যাটিং-বোলিংয়ে দারুণ পারফরম্যান্স দেখানো বাংলাদেশ এখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে চাইবে। বড় লিড পাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়াই এখন বাংলাদেশের লক্ষ্য।
আমার বাঙলা/ রাব্বি
