ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ঘটেছে অস্বাভাবিক এক ঘটনা। উড্ডয়নের প্রস্তুতির মুহূর্তে এক যাত্রীর ব্যক্তিগত কারণে বিমান থামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে ইতোমধ্যে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সূত্র জানায়, রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এয়ার অ্যাস্ট্রার একটি ফ্লাইট চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছাড়ার কথা ছিল। বোর্ডিং সম্পন্ন করে বিমানটি যখন রানওয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, ঠিক তখনই এক যাত্রী বিমান থামানোর দাবি জানান।
প্রথমে কেবিন ক্রু বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও পরে ওই যাত্রী নিজেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন এবং পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে চাপ সৃষ্টি করেন। অভিযোগ রয়েছে, তার এই প্রভাবের কারণে ফ্লাইটটি ট্যাক্সিওয়ে থেকেই ঘুরিয়ে আবার টার্মিনালে ফিরিয়ে আনা হয়।
পরে জানা যায়, ওই যাত্রী বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন এবং তাড়াহুড়োয় নিজের শেরওয়ানি বাসায় ফেলে আসেন। সেটি আনতেই তিনি ফ্লাইট থেকে নামার সিদ্ধান্ত নেন। এই ঘটনায় প্রায় ১০০ যাত্রীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং তাদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা বিলম্বের পর পুনরায় ফ্লাইটটি ছেড়ে যায়। এ সময় যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার বা পানীয়ের ব্যবস্থাও ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো জরুরি চিকিৎসা, নিরাপত্তা ঝুঁকি বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছাড়া এভাবে উড্ডয়নরত বিমানের গতি থামানো আন্তর্জাতিক নিয়মবিরুদ্ধ। এতে নিরাপত্তা প্রটোকল এবং অপারেশনাল নীতিমালার লঙ্ঘন ঘটে।
একজন বিশেষজ্ঞ জানান, এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে নামানোর পাশাপাশি তার লাগেজও পুনরায় নিরাপত্তা যাচাইয়ের আওতায় আনা উচিত। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত জরুরি।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ভুক্তভোগী যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজনের ব্যক্তিগত কারণে পুরো বিমানের যাত্রীদের এমন ভোগান্তি মেনে নেওয়া যায় না। অনেকেই ক্ষতিপূরণের দাবিও তুলেছেন।
ঘটনাটি নিয়ে বিমান সংস্থা ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এখন সবার নজর তদন্তের ফলাফলের দিকে।
