সিলেটে তীব্র দাবদাহ ও অসহনীয় গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই চলছে অনিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট। ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
সোমবার সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে পানীয় জলের সংকট। বিদ্যুতের এই দুর্ভোগের প্রতিবাদে রোববার রাতে সিলেট সদর উপজেলার টুকেরবাজারে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বিদ্যুৎ গ্রাহকরা।
বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহে ব্যবসায়ীদের ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে নগরের জিন্দাবাজারের পোশাক ব্যবসায়ী জাবের আহমদ বলেন, ব্যবসা এমনিতেই মন্দা। এর মধ্যে কিছুক্ষণ পরপর বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় জেনারেটর চালিয়ে লাইট-ফ্যান সচল রাখতে হচ্ছে। এতে আয় কমে গেলেও খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
ভার্থখলা এলাকার ওষুধ ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ার কারণে ফ্রিজ ও এসি নির্ধারিত তাপমাত্রায় চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ফ্রিজে সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ অনেক ওষুধ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
শিবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা রাহেলা বেগম বলেন, দিনে-রাতে অন্তত সাত-আটবার বিদ্যুৎ চলে যায়। এমনকি রাত ১২টার পরও অনেক সময় বিদ্যুৎ থাকে না। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, রাত ১২টার পর বিদ্যুতের চাহিদা কমে যাওয়ার পরও কেন লোডশেডিং করতে হবে?
সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সিলেটে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ২৪৭ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া গেছে ২০২ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি ছিল ৪৫ মেগাওয়াট। এর আগের দিন রোববার ২৩৩ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৭৭ মেগাওয়াট। সেদিন ঘাটতি ছিল ৫৬ মেগাওয়াট।
লোডশেডিং ও জনভোগান্তির বিষয়ে সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন বলেন, সারাদেশেই বর্তমানে বিদ্যুতের সংকট চলছে। জাতীয় গ্রিড থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা-ই বিভিন্ন এলাকায় বণ্টন করা হয়। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ বাড়লে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সরবরাহে ঘাটতি থাকলে বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করতে হবে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি
