দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট)। জাতীয় সংসদে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ভোটের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।
এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় ঐক্য মনোনীত প্রার্থী কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ, বীর বিক্রম। নির্বাচনকে সামনে রেখে সংসদ সদস্যদের ভোটদানের ক্ষেত্রে ৯ দফা নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ইসির ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ২০২৬’ শীর্ষক নির্দেশনায় এসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দেশনাগুলো হলো—
১. নির্ধারিত সময়ে সংসদ কক্ষে প্রবেশ
২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে সংসদ কক্ষে প্রবেশ করে ব্যালট সংগ্রহ ও ভোট দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।
২. আইডি কার্ড সঙ্গে রাখতে হবে
সংসদ কক্ষে প্রবেশের সময় সংসদ সচিবালয় থেকে দেওয়া আইডি কার্ড সঙ্গে রাখতে হবে।
৩. ব্যালট সংগ্রহের নিয়ম
নিজ আসনে বসার পর সহায়তাকারী কর্মকর্তার কাছ থেকে নিজের নাম ও বিভক্তি নম্বরসংবলিত ব্যালট পেপার নিতে হবে। ব্যালটের কাউন্টার ফয়েল বা চেকমুড়িতে নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম লিখে তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে ফেরত দিতে হবে।
৪. পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে
ব্যালট পেপারের নির্ধারিত স্থানে পছন্দের প্রার্থীর নামের বিপরীতে ভোট দিতে হবে।
৫. নির্ধারিত বাক্সে ব্যালট জমা
ভোট দেওয়া শেষ হলে ব্যালট পেপার সংসদ কক্ষে রাখা নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে জমা দিতে হবে।
৬. ব্যালট নষ্ট হলে নির্বাচনকর্তাকে জানাতে হবে
কোনো কারণে ব্যালট পেপার নষ্ট হয়ে গেলে সেটি ব্যালট বাক্সে জমা দেওয়ার আগে নির্বাচনকর্তার কাছে উপস্থাপন করতে হবে। এরপর নির্বাচনকর্তা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
৭. নির্বাচনী প্রচার করা যাবে না
ভোটগ্রহণের জন্য সংসদ সদস্যদের বৈঠকে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচার, বক্তব্য বা ভাষণ দেওয়া যাবে না।
৮. সমস্যায় চিফ হুইপের সহায়তা নিতে হবে
ভোট দেওয়ার সময় কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে চিফ হুইপ ও বিরোধীদলের চিফ হুইপের সহায়তা নিতে হবে।
৯. ব্যালটে পূর্ণ নাম লিখতে হবে
ব্যালট পেপারে ভোটারের পূর্ণ স্বাক্ষরের জন্য নির্ধারিত স্থানে স্বাক্ষরের পরিবর্তে পূর্ণ নাম লিখতে হবে।
ভোটগ্রহণ শেষ হবে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায়। এরপরই শুরু হবে ভোট গণনা। প্রথমে কতজন ভোট দিয়েছেন, কতটি ব্যালট বৈধ ও বাতিল হয়েছে এবং কতটি ব্যালট অব্যবহৃত রয়েছে—তার হিসাব করা হবে। পরে প্রার্থীদের পাওয়া বৈধ ভোট গণনা করা হবে। সর্বাধিক বৈধ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করবেন নির্বাচনকর্তা। পরবর্তী সময়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।
এর আগে, গত ২৪ জুলাই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। এরপর ৬ আগস্ট শূন্য পদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। ১৩ আগস্ট বিএনপি মনোনীত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় ঐক্য মনোনীত অলি আহমদ রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেন। ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই শেষে দুই প্রার্থীর মনোনয়নই বৈধ ঘোষণা করা হয়।
আমার বাঙলা/ রাব্বি
