রাতে ঘুমের মধ্যে বারবার প্রস্রাবের বেগে জেগে উঠছেন? অনেকেই বিষয়টিকে বয়স বাড়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া মনে করে এড়িয়ে যান। তবে নিয়মিত এমন হলে শুধু বেশি পানি পান করাই এর কারণ নয়। এর পেছনে থাকতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা।
ডায়াবেটিস, মূত্রথলি, কিডনি কিংবা প্রোস্টেটের সমস্যাসহ নানা কারণে রাতে বারবার প্রস্রাব হতে পারে। ঘুমের মধ্যে প্রস্রাবের জন্য বারবার জেগে ওঠার এই সমস্যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘নকচুরিয়া’ বলা হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে এর প্রবণতা বাড়লেও যেকোনো বয়সেই এটি দেখা দিতে পারে।
নকচুরিয়ার কারণ কী?
ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত পানি বা অন্য কোনো তরল পান করলে রাতে প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। সন্ধ্যার পর চা-কফি বা অ্যালকোহল পান করলেও এ সমস্যা বাড়তে পারে। আবার কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও রাতে প্রস্রাবের প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
এ ছাড়া ডায়াবেটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ, অতিসক্রিয় মূত্রথলি, কিডনির বিভিন্ন সমস্যা এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট বড় হয়ে যাওয়ার কারণেও রাতে বারবার প্রস্রাব হতে পারে। গর্ভাবস্থা ও মেনোপজের পর নারীদের মধ্যেও নকচুরিয়া দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা কিংবা ঘুমের ব্যাধির সঙ্গেও এ সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
রাতে কতবার প্রস্রাব হলে সেটিকে অস্বাভাবিক বলা হবে, তার নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নেই। তবে নিয়মিত একাধিকবার ঘুম ভেঙে গেলে এবং এর কারণে ঘুমের ব্যাঘাত বা দৈনন্দিন কাজে সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিশেষ করে প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা, প্রস্রাবে রক্ত, প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত তৃষ্ণা কিংবা জ্বরের মতো উপসর্গ থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সমস্যা কমাতে কী করবেন?
কিছু জীবনযাপনের পরিবর্তন নকচুরিয়ার সমস্যা কমাতে সহায়তা করতে পারে। ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা আগে অতিরিক্ত তরল পান না করা, দিনের বেলায় প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি পান করা এবং সন্ধ্যার পর চা-কফি ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা উপকারী হতে পারে।
তবে সমস্যা কমানোর জন্য পানি একেবারে কমিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। কোনো ওষুধ শুরু করার পর থেকে রাতে বারবার প্রস্রাবের সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সেটি বন্ধ করা উচিত নয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সমস্যা নিয়মিত হলে শুধু পানি কমিয়ে দিয়ে তা উপেক্ষা না করা। কারণ নকচুরিয়ার চিকিৎসা এর অন্তর্নিহিত কারণের ওপর নির্ভর করে। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষা, প্রস্রাব পরীক্ষা বা অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কারণ শনাক্ত করে চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন।
আমার বাঙলা/ রাব্বি
