বায়ুদূষণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। দূষিত শহরের তালিকায় প্রায়ই শীর্ষ ১০ শহরের মধ্যে চলে আসে রাজধানী ঢাকা। বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় রাজধানীতে ২৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এত বৃষ্টির পরদিন আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে রাজধানী ঢাকা ১৭৭ স্কোর নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত নগরী। এই মানকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। দূষণে আজ দ্বিতীয় ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা, বায়ুর মান ১৫৯।
প্রতিদিনের মতো আজও বায়ুদূষণের এই চিত্র পাওয়া গেছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের কাছে থেকে। প্রতিষ্ঠানটি বায়ুদূষণের অবস্থা নিয়মিত তুলে ধরে। বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা এই লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় ও সতর্ক করে।
বায়ুদূষণ নিয়ে সতর্ক শুধু এ প্রতিষ্ঠানই করে না। বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবাদী, চিকিৎসক অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে করে আসছেন। আর দূষণ কমাতে গুচ্ছের প্রকল্পেরও কমতি নেই। কিন্তু তাতে ঢাকার দূষণ কমেনি, বরং বেড়েছে। এবার যেমন মে মাস চলে এল, বৃষ্টি হচ্ছে প্রায় প্রতিদিন, কিন্তু বায়ুর মানের উন্নতির কোনো লক্ষণ নেই।
আজ বায়ুদূষণে শীর্ষে আছে রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় থাকা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্র (বিআইডিএস)। এ এলাকার বায়ুমান ২১৬। বায়ুর মান দুই শতাধিক হলে তাকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এমনি আরেক খুব অস্বাস্থ্যকর বায়ু নিয়ে আছে বারিধারা পার্ক রোড এলাকা। এখানকার বায়ুর মান ২০৯। এরপর দূষণের তালিকায় আছে যথাক্রমে গুলশানের বে’জ এইজ ওয়াটার (১৯৪), গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (১৮১), উত্তর বাড্ডা (১৬১), বেচারাম দেউড়ী (১৮০), গুলশান লেক পার্ক (১৭৮) ও বারিধারা লেক সাইড (১৭১)।
আইকিউএয়ারের পরামর্শ অনুযায়ী, আজ ঢাকায় বায়ুর যে মান, তাতে বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। বাড়ির বাইরে গিয়ে ব্যায়াম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর ঘরের জানালাগুলো যতটা সম্ভব বন্ধ রাখতে হবে।
বায়ুমান বিশেষজ্ঞ ও বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়নকেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, শুধু নির্মাণকাজের সময় দূষণ রোধে ব্যবস্থা নেওয়া গেলে বায়ুর মান কিছুটা হলেও ফিরবে। এ কাজের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। এ জন্য তাদের কোনো আলাদা করে প্রকল্পের দরকার নেই। তাদের বিদ্যমান আইনেই করণীয় লেখা আছে। কিন্তু সিটি করপোরেশনগুলোর এসব দিকে ভ্রুক্ষেপ নেই।
ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণজনিত সমস্যায় জর্জরিত। এর বায়ুর গুণমান সাধারণত শীতকালে অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে এবং বর্ষাকালে উন্নত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, বায়ু দূষণের কারণে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।
একিউআই সূচক পাঁচটি দূষণের ওপর নির্ভরশীল। সেগুলো হলো- অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন।
সাননিউজ/আরএ
