টানা বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় রাঙ্গামাটির সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জেলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বাঘাইছড়ি উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়ন থেকে বন্যার পানি নেমে গেছে। এতে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া মানুষ ধীরে ধীরে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন।
এদিকে বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়ন থেকেও সম্পূর্ণভাবে বন্যার পানি সরে গেছে। পানি নেমে যাওয়ার পর সেখানে বন্যার ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে এসেছে। বেশ কয়েকটি বাড়িঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে।
ফারুয়া বাজার কমিটির সভাপতি মো. হারুন জানান, বন্যায় বাজার ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে পুরো বাজার ও সংলগ্ন এলাকা প্রায় আড়াই ফুট পলিমাটির নিচে চাপা পড়ে আছে। ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা পলি অপসারণ করে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। তবে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, জেলার বন্যা পরিস্থিতির ধারাবাহিক উন্নতি হচ্ছে। বাঘাইছড়ির অধিকাংশ এলাকা থেকে পানি নেমে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রের অনেক বাসিন্দা বাড়িতে ফিরেছেন। বিলাইছড়ির ফারুয়া ইউনিয়নের পানি সম্পূর্ণ সরে গেছে এবং সেখানে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।
তিনি আরও জানান, বরকল ও জুরাছড়ি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতিরও উন্নতি হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের জন্য তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের উদ্যোগে বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সান নিউজ/ জামান
