যুবদলের সদ্য ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে চলমান অসন্তোষের মধ্যে আবারও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন পদবঞ্চিত যুবদল নেতারা। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত প্রায় ১১টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডিতে এ্যানির বাসভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা অভিযোগ করেন, নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের সময় দলের দুঃসময়ে সক্রিয় ও পরীক্ষিত অনেক নেতাকে মূল্যায়ন করা হয়নি। তাদের দাবি, এর পরিবর্তে দীর্ঘদিন রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়, অপরিচিত এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিভিন্ন পদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি কমিটি গঠনে অনিয়ম ও পদ বাণিজ্যের অভিযোগও তুলে ধরেন তারা।
পদবঞ্চিত নেতাদের ভাষ্য, গত ৪ জুন কমিটি ঘোষণার পর থেকেই তারা দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরছেন। তবে এখন পর্যন্ত কেবল আশ্বাস মিললেও দৃশ্যমান কোনো সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তারা দাবি করেন।
বৈঠকে তারা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের সাংগঠনিক কর্মসূচি ও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে তারা যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতি আহ্বান জানান, যেসব ব্যক্তি অনৈতিক উপায়ে বা বিতর্কিতভাবে পদ পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের নাম ও পদবি প্রকাশ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
এছাড়া নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ যাচাই করে অনিয়মের মাধ্যমে পদ পাওয়া ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে দলের পরীক্ষিত, ত্যাগী ও দীর্ঘদিনের সক্রিয় নেতাদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করারও দাবি জানান তারা।
বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের বক্তব্য শোনার পর বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বিষয়টি সম্পর্কে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব অবগত রয়েছেন বলে জানান। তিনি পদবঞ্চিত নেতাদের আশ্বস্ত করে বলেন, বিএনপির মহাসচিবসহ সংশ্লিষ্ট নেতারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই একটি ইতিবাচক সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকে ছাত্রদল ও যুবদলের কেন্দ্রীয় এবং বিভিন্ন ইউনিটের সাবেক দায়িত্বশীল নেতাসহ বিপুলসংখ্যক পদবঞ্চিত নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, তিতুমীর কলেজ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও পূর্ব এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।
উল্লেখ্য, পদবঞ্চিত নেতাদের অভিযোগ ও দাবির বিষয়ে যুবদলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ থেকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
