ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিসহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষার্থীদের চলমান ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজিপি সংশ্লিষ্ট বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও নির্বিচারে আটকের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ছয়জন প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতা।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিশিষ্ট রাজনীতিক প্রমিলা জয়পালের নেতৃত্বে এই আইনপ্রণেতারা দেশটির আসন্ন ভারত সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছে জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তিনি নয়াদিল্লি প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে এই মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রসঙ্গটি জোরালোভাবে উত্থাপন করেন।
আগামী সপ্তাহে নির্ধারিত ভারত সফরে এসে মুম্বাই শহরে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে রুবিওর।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে প্রমিলা জয়পাল মন্তব্য করেন যে, বিশ্বের সর্ববৃহৎ দুই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের যৌথ দায়িত্ব হলো নিজ নিজ নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ করার অধিকার এবং বাকস্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখা।
সহকর্মী আইনপ্রণেতা ম্যাকগভার্নকে সঙ্গে নিয়ে তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভারতীয় শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার টেবিলে মতপ্রকাশের এই মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়টি যেন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়।
শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এবং বিভিন্ন কনস্যুলেটগুলোর ভূমিকা নিয়েও গুরুতর অভিযোগ এনেছেন জয়পাল। তার দাবি, মার্কিন মুল্লুকে সিজিপি আন্দোলনের পক্ষে সরব হওয়া প্রবাসীদের ওপর গোপনে নজরদারি ও ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে কূটনৈতিক মিশনগুলোতে ইচ্ছেকৃতভাবে চিত্রগ্রাহক বা ফটোগ্রাফার মোতায়েন করা হয়েছে।
মূলত দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চড়াও হওয়া, বেআইনি গ্রেপ্তার এবং অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেই তারা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে এই বিশেষ চিঠি প্রেরণ করেছেন।
বর্তমান মোদি প্রশাসনের নীতির সমালোচনা অবশ্য প্রমিলা জয়পালের জন্য নতুন কিছু নয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর কর্মসূচি নিয়েও কড়া উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন এই মার্কিন আইনপ্রণেতা।
প্রমিলা বলেন, প্রশাসনের ওই বিশেষ প্রক্রিয়ার কারণে প্রায় ১৩ কোটি সাধারণ নাগরিক ভোটাধিকার হারিয়ে তালিকা থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
এদিকে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের এমন কঠোর অবস্থান ও ধারাবাহিক মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে নয়াদিল্লির সাউথ ব্লক। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে, মার্কিন আইনপ্রণেতার এহেন মন্তব্য অন্য একটি সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপের সমতুল্য।
ভারতীয় পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গণমাধ্যমের সামনে প্রতিক্রিয়ায় জানান যে, মার্কিন কংগ্রেসের এই নেত্রীর মন্তব্যগুলো সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অসত্য তথ্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং দুই বন্ধুভাবাপন্ন দেশের সুসম্পর্কের পরিপন্থী। এই ধরনের একপেশে দৃষ্টিভঙ্গি প্রকারান্তরে বৈশ্বিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকেই দুর্বল করে দেয় বলে মন্তব্য করেছে নয়াদিল্লি।
সান নিউজ / রাজীব
