মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার মৌজায় জমির দখল নিয়ে বিরোধের ঘটনায় প্রতিপক্ষকে ১৫ দিনের মধ্যে জমির দখল ছেড়ে আবেদনকারীদের বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়। গত ১৪ অক্টোবর জারি করা আদেশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশ বাস্তবায়ন না হলে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় উচ্ছেদসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এদিকে, বিরোধপূর্ণ জমিতে থাকা একটি স্থাপনায় অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। স্থাপনাটির কেয়ারটেকার কামালের বিরুদ্ধে এক নারীকে সেখানে নিয়ে গিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া ও মাদক সেবনের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, স্থাপনাটি মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কার্যালয়ের পেছনে, কার্যালয় থেকে প্রায় ১০০ গজের মধ্যে অবস্থিত। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় পাওয়া একটি ভিডিওতে এক নারীকে ওই স্থাপনায় একাধিকবার যাওয়ার কথা বলতে শোনা যায়। ভিডিওতে তিনি চারবার সেখানে যাওয়ার এবং প্রতিবার ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পাওয়ার দাবি করেন। তবে ভিডিওটির সত্যতা, ধারণের সময় এবং বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক সেবনের অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে প্রতিপক্ষ শাহাদাৎ হোসেন নিয়াজ মুঠোফোনে জানান, তাঁর কেয়ারটেকার কামাল এক নারীকে নিয়ে ওই স্থাপনায় অনৈতিক কর্মকাণ্ড করেছেন এবং মাদক সেবন করেছেন—এমন বিষয় তিনি আগের দিন জানতে পেরেছেন। বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে গেলেও কামালকে পাননি বলে জানান তিনি। কামালের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন শাহাদাৎ হোসেন নিয়াজ।
স্থানীয় এক দোকানদার ঘটনাটি সম্পর্কে জানেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবে ভয়ের কারণে তিনি বিস্তারিত বলতে রাজি হননি বলে জানা গেছে। এ ছাড়া, একটি মুঠোফোনে ধারণ করা কথোপকথনে ওই স্থাপনায় নারীকে নিয়ে কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আপত্তির কথা শোনা যায় বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
জমি পুনরুদ্ধারে ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে স্মারক নম্বর ২১৮ এবং আবেদন নম্বর ৩৩/২০২৬-এর অধীনে জমির দখল পুনরুদ্ধারের বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। আবেদনকারীরা হলেন মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার দক্ষিণ পাইকপাড়া গ্রামের মৃত সামছুল হক মোল্লার ছেলে মো. জয়নাল আবেদীন ও মো. আবুল বাছেদ। প্রতিপক্ষ হিসেবে নথিতে পঞ্চসার এলাকার মৃত মোহাম্মদ হোসেন মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন মিয়াদের নাম উল্লেখ রয়েছে।
আবেদনকারী মো. জয়নাল আবেদীন অভিযোগ, তফসিলভুক্ত জমি থেকে তাঁদের উচ্ছেদ করে দখলচ্যুত করা হয়েছে। এ বিষয়ে জারি করা আদেশে প্রতিপক্ষকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দখল ছেড়ে দিতে এবং জমিতে কোনো স্থাপনা থাকলে তা সরিয়ে আবেদনকারীদের অনুকূলে দখল হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আদেশে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশ পালন করা না হলে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে আবেদনকারীদের দখল পুনর্বহালের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। প্রয়োজনে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ বা ক্রোকসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
আদেশের তফসিল অনুযায়ী, মুন্সীগঞ্জ সদর থানার পঞ্চসার মৌজায় সংশ্লিষ্ট জমির মোট পরিমাণ ৪৭ শতাংশ। এর মধ্যে বেদখল অংশ হিসেবে ০.৭ শতাংশ জমির উল্লেখ রয়েছে। জমির শ্রেণি নাল, হালে বাড়ি। সংশ্লিষ্ট নথিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর ও সিলমোহর রয়েছে বলে জানা গেছে।
সাননিউজ/বান্না
