পদ্মা নদীর অব্যাহত ভাঙনে ঘরবাড়ি, আবাদি জমি ও জীবিকা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলার শিলই ইউনিয়নের পূর্বরাখী এবং টংগীবাড়ী উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের শত শত মানুষ। তাদের দুর্ভোগ লাঘবে শুক্রবার (২৪ জুলাই) ভাঙনকবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ, নদীতীরে জিও ব্যাগ ফেলা এবং স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এদিন, সকালে নদীভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুন্সীগঞ্জের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ আলো। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক নুরমহল আশরাফী ও পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নদীভাঙন শুধু মানুষের বসতভিটা নয়, বছরের পর বছর গড়ে তোলা স্বপ্ন, সহায়-সম্বল ও জীবিকার ভিত্তিও কেড়ে নেয়। প্রতি বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটানো মানুষগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। সরকারের পক্ষ থেকে ভাঙন রোধে চলমান উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।
আলোচনা শেষে অতিথিরা ভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং নদীতীরে জিও ব্যাগ ফেলার কার্যক্রমে অংশ নেন। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হলে বছরের পর বছর ধরে চলা ভাঙনের দুর্ভোগ থেকে তারা মুক্তি পাবেন। ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে সামাজিক সচেতনতামূলক বক্তব্যও তুলে ধরা হয়।
বক্তারা মাদক, জুয়া, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এসব অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠান শেষে ভাঙনকবলিত মানুষের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা বলেন, তাৎক্ষণিক সহায়তা তাদের কিছুটা স্বস্তি দিলেও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ছাড়া নদীভাঙনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তির আর কোনো বিকল্প নেই। তাঁদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে পদ্মার ভয়াল ভাঙন থেকে জনপদকে রক্ষা করা হবে।
আমার বাঙলা/ জামান
