ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে ডাকাত দলের হামলায় র্যাবের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। সোমবার (১১ মে) বিকাল চারটার দিকে খাগাতুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত তিনজন হলেন র্যাবের গোয়েন্দা শাখার সদস্য হাবিলদার মো. কাজল (৩৩), আবদুল মালেক (৩৪) ও কনস্টেবল মো. রাশেদ (৪৩)। তারা র্যাব-৯-এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন ও র্যাব-৯ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের খাগাতুয়া গ্রামের বাসিন্দা শফিক মিয়া ওরফে চোরা শফিক একজন চিহ্নিত ডাকাত। শফিক ডাকাত সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে র্যাবের গোয়েন্দা শাখার সার্জেন্ট মো. ফারুক, সদস্য রাশেদ, মালেক ও কাজল সাধারণ পোশাকে সোমবার বিকাল আনুমানিক চারটার দিকে খাগাতুয়া গ্রামে যান।
গ্রামে র্যাব সদস্যদের উপস্থিতির খবর গোপন সূত্রে জানতে পারেন শফিক ও তার সহযোগীরা। পরে তারা র্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় র্যাব সদস্যদের কুপিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। এরপর আহত তিন সদস্যকে গ্রামের একটি বাড়িতে তিন ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। একজন কৌশলে পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে র্যাব ও গোয়েন্দা শাখার অন্য সদস্যরা সন্ধ্যা সাতটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করেন। পরে আহত সদস্যদের নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এর আগেও শফিক মিয়ার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ আছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে হামলার পর ৫২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে স্থানীয় একজনের সঙ্গে র্যাবের এক সদস্যকে কথা বলতে শোনা যায়। র্যাবের ওই সদস্যকে বলতে শোনা যায়, ‘মার কসম, মায়ের দুধের কসম।’ জবাবে স্থানীয় ওই ব্যক্তি গালি দিয়ে বলেন, ‘যদি আবার আইয়াস, একবারে কাইটা ফালাই দিমু।’ ভিডিওতে টি-শার্ট পরা এক র্যাব সদস্যকে দুই কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে এবং বাকি দুই সদস্যকে হাতে আঘাত নিয়ে কাতরাতে দেখা যায়।
নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, রাত আটটার দিকে র্যাবের তিন সদস্যকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের হাতে ও মাথায় এবং একজনের মাথায় দায়ের কোপের জখমের চিহ্ন আছে। আহত তিন সদস্যকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহত আবদুল মালেক জানান, তারা তথ্য সংগ্রহের কাজে দুটি মোটরসাইকেলে করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থানার দুর্গারামপুর সেতুর পূর্ব পাশে যাওয়ার পথে খাগাতুয়া গ্রামে হামলার শিকার হন। চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ডাকাত শফিক এবং তার বাহিনী পথ রোধ করে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় তিনি মাথায় আঘাত পান এবং তার দুই সহকর্মী আহত হন। প্রাণ বাঁচাতে তাদের ক্ষমাও চাইতে হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া র্যাব-৯-এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নুরুনবী গণমাধ্যমকে এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদুল আলম চৌধুরী বলেন, শফিক মিয়া একজন চিহ্নিত ডাকাত। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আছে।
সাননিউজ/আরএ
