বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে নতুন কর্মজীবনে পা রাখার অপেক্ষায় ছিলেন মীর তানভীর আহমেদ (৩১)। ৪৫তম বিসিএসে কৃষি ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন আনন্দের খবর। নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতিও চলছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। কফিনবন্দি হয়ে বাড়ি ফিরেছে তাঁর খণ্ডিত মরদেহ।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেললাইনের পাশ থেকে মীর তানভীর আহমেদের গলা কাটা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ খণ্ড-বিখণ্ড অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যু ট্রেন দুর্ঘটনায়, নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—এ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। ঘটনাটি ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে।
মীর তানভীর আহমেদ মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ভদ্রাসন ইউনিয়নের ডিগ্রিরচর এলাকার মীর বজলুর রশিদের ছেলে। তিনি দিনাজপুরের গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটে ফার্ম সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রায় এক মাস আগে তাঁকে পঞ্চগড়ে বদলি করা হয়েছিল।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত থেকে তানভীরের মোবাইল ফোনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। পরে স্বজনেরা জানতে পারেন, সৈয়দপুর এলাকার রেললাইনের পাশে একটি খণ্ডিত মরদেহ পড়ে রয়েছে। খবর পেয়ে তাঁরা সেখানে গিয়ে মরদেহটি তানভীরের বলে শনাক্ত করেন।
পরিবারের দাবি, তানভীরের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ তাঁর কর্মস্থলেই পাওয়া গেছে। এ তথ্য জানার পর তাঁর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে স্বজনদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয়রা মঙ্গলবার রাতেই রেললাইনের পাশে খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পেয়েছিলেন। তবে তানভীরের স্বজনেরা বিষয়টি জানতে পারেন বুধবার দুপুর ১২টার দিকে। মরদেহের গলা কাটা এবং শরীরের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়ায় এটি নিছক ট্রেন দুর্ঘটনা কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
তানভীরের স্বজনেরা জানান, বর্তমান চাকরি থেকে পদত্যাগ করে ৪৫তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত কৃষি ক্যাডারে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা এই তরুণের এমন মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
তানভীরের বিসিএস ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্তির খবরে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক প্রত্যাশা। তাঁকে ঘিরে ছিল নতুন ভবিষ্যতের নানা পরিকল্পনা। সেই স্বপ্নের পরিবর্তে এখন স্বজনদের সামনে পড়ে আছে তাঁর নিথর দেহ।
পরিবারের দাবি, মরদেহের অবস্থার সঙ্গে সাধারণ রেল দুর্ঘটনার বিষয়টি তাঁদের কাছে অসংগতিপূর্ণ মনে হচ্ছে। তাই ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ঘটনায় কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাঁদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে। এটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তদন্তের পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন, পরিবারের প্রত্যাশা আর নতুন জীবনের পরিকল্পনা—সবকিছুই এখন অতীত। স্বপ্নের চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগেই মীর তানভীরের জীবন থেমে গেল রহস্যময় এক মৃত্যুর ঘটনায়।
