দল নিয়ে শুরু হওয়া বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে এখন টিকে আছে আটটি দল। একদিন বিরতির পর আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হচ্ছে ফিফার এই মহাযজ্ঞের শেষ আটের লড়াই। তবে সেমিফাইনালের টিকিট পাওয়ার লড়াইয়ে নামার আগে দুশ্চিন্তায় রয়েছে ৮ দলের অন্তত ১৮ ফুটবলার। কারণ কোয়ার্টার ফাইনালে আরেকটি হলুদ কার্ড দেখলেই সেমিফাইনালে মাঠে নামার সুযোগ হারাতে পারেন তারা।
এই তালিকায় রয়েছে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ডের মতো শিরোপাপ্রত্যাশী দলগুলোর খেলোয়াড়রাও। সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে ইংল্যান্ড ও মরক্কোকে। কারণ দুই দলের চারজন করে ফুটবলার নকআউট পর্বে ইতোমধ্যে একটি হলুদ কার্ড পেয়েছেন। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের খেলতে হবে বাড়তি সতর্কতা নিয়ে।
এ ছাড়া সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্সের তিনজন করে এবং স্পেন, বেলজিয়াম, আর্জেন্টিনা ও নরওয়ের একজন করে ফুটবলার হলুদ কার্ড দেখেছেন।
বিশ্বকাপের আগে হলুদ কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞার নিয়মে পরিবর্তন এনেছে ফিফা। আগের নিয়ম অনুযায়ী, কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত কোনো খেলোয়াড় দুটি ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখলে পরের ম্যাচে নিষিদ্ধ হতেন। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে ৩২ দলের পরিবর্তে ৪৮ দল অংশ নেওয়ায় নকআউট পর্বে যুক্ত হয়েছে বাড়তি একটি রাউন্ড। ফিফার ধারণা, এতে খেলোয়াড়দের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।
আগের নিয়মে কোনো পরিবর্তন না আনা হলে সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তারকা খেলোয়াড়দের হারানোর আশঙ্কা করে ফিফা। কারণ, সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে এবার খেলোয়াড়দের ছয়টি ম্যাচ খেলতে হচ্ছে। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপে চালু হয় নতুন কার্ড নীতি। গ্রুপ পর্বে পাওয়া সব হলুদ কার্ড নকআউট পর্ব শুরুর আগে বাতিল (রিসেট) হয়ে গেছে। এরপর কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে আবারও হলুদ কার্ডের হিসাব শুরু হয়।
বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, ভিন্ন দুই ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড পেলে খেলোয়াড়কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হতে হয়। ফলে শেষ ৩২ কিংবা শেষ ষোলোর ম্যাচে যারা ইতোমধ্যে একটি হলুদ কার্ড পেয়েছেন তারা আবারও সতর্কবার্তা পেলে, সংশ্লিষ দল সেমিফাইনালে উঠলে তারা ম্যাচটি খেলতে পারবেন না। যেহেতু কোয়ার্টার ফাইনালের পর হলুদ কার্ডের তালিকা আবার নতুন করে শুরু হয়, তাই হলুদ কার্ডের সংখ্যার কারণে কোনো খেলোয়াড় ফাইনালে নিষিদ্ধ হবেন না। কেবল সেমিফাইনালে লাল কার্ড পেলেই ফাইনালে খেলতে পারবেন না তিনি।
লাল কার্ড পাওয়া খেলোয়াড় স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হবেন। আবার সহিংস আচরণের ক্ষেত্রে মাত্রা অনুসারে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার অধিকার রাখে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি। প্রসঙ্গত, আজ (৯ জুলাই) থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনাল, ১৪-১৫ জুলাই সেমিফাইনাল, ১৮ জুলাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী এবং ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে মেগা আসরের ফাইনাল।
নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে যে ১৮ ফুটবলার
ইংল্যান্ড : জুড বেলিংহ্যাম, নিকো ও’রাইলি, ডেক্লান রাইস, মার্ক গেয়ি
মরক্কো : ইসা দিওপ, আশরাফ হাকিমি, রেদোয়ান হালহাল, বিলাল এল খানুস
ফ্রান্স : মানু কোনে, মাইকেল ওলিসে, ব্রাডলি বারকোলা
সুইজারল্যান্ড : গ্রানিত জাকা, ডেনিস জাকারিয়া, মিরো মুহাইম
আর্জেন্টিনা : গঞ্জালো মন্টিয়েল
স্পেন : ফেররান তোরেস
বেলজিয়াম : ব্র্যান্ডন মেচেলে
নরওয়ে : অ্যান্তোনিও নুসা
আমার বাঙলা/ রাব্বি
