নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) তীব্র ক্লাসরুম ও একাডেমিক সংকট নিরসনে নির্মাণাধীন ‘একাডেমিক ভবন-৩’-এর কাজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, নোবিপ্রবি শাখা। স্মারকলিপির সাথে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির সহস্রাধিক গণস্বাক্ষরও সংযুক্ত করে দেওয়া হয়।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষামন্ত্রীর সামনেও সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই দাবিটি জোরালোভাবে উত্থাপন করেন। এরই ধারাবাহিকতায়, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে গত ২৩ ও ২৪ জুন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উন্মুক্ত গণস্বাক্ষর কর্মসূচির আয়োজন করে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবির। এতে বিভিন্ন বিভাগের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেন।
একাডেমিক ভবনের কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানিয়ে ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন বলেন, আমাদের একাডেমিক ভবন-৩ এর জন্য প্রায় ৩৩৪ কোটি টাকার একটা বাজেট অনুমোদন হয়েছে। আমরা চাই এই কাজের দায়িত্ব সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তর করা হোক। আপনারা দেখেছেন যে ছেলেদের হলের সামনে সামান্য রাস্তায় কীভাবে অনিয়ম করা হয়েছে। আমরা এই কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম চাই না। এর আগেও জি কে শামীমের হাতে কাজটি ছিল, কিন্তু তিনি তা সম্পন্ন করেননি। আমরা আর কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি দেখতে চাই না।
ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ বলেন, আমরা ক্যাম্পাসে আসার পর থেকেই দেখছি একাডেমিক ভবনের কাজ পড়ে আছে। অথচ শিক্ষার্থীরা তীব্র ক্লাস সংকটে ভুগছে। এই কাজটা সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তর করা হলে স্বচ্ছতার সাথে দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে মনে করি।
শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মুস্তাইন বিল্লাহ বলেন,আমরা তীব্র ক্লাস সংকটে আছি,একাডেমিক ভবন-৩ এর কাজ শেষ হওয়া এখন খুবই জরুরি। সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তর করা হলে দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে মনে করি। ছাত্রশিবিরের এই গণদাবির প্রতি একাত্মতা পোষণ করছি। তারা গণস্বাক্ষর নিয়ে ব্যাপক কাজ করেছে। এজন্য তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ফারিয়া বলেন, ছাত্রশিবির যে উদ্যোগটা নিয়েছে সেটা আমাদের সকল শিক্ষার্থীরই দাবি। তাদের দাবির প্রতি আমরাও একমত পোষণ করছি। যেন ভবনের কাজটা দ্রুত সম্পন্ন হয়।
একই দাবি জানিয়ে বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী সারা জামান বলেন, আমরা কী রকম ক্লাস সংকটে আছি তা সবাই জানে। এখন যেহেতু কাজটা পুনরায় সম্পন্ন করার একটা সুযোগ এসেছে, সেক্ষেত্রে এটি সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তর করা যৌক্তিক বলে মনে করি।
শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী প্রিতম বলেন, বিভিন্ন দুর্নীতির কারণে দেখা যায় এ সমস্ত কাজগুলো আটকে যায় এবং দিনশেষে শিক্ষার্থীদেরই ভুগতে হয়। তাই শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের স্বার্থে সেনাবাহিনীর হাতে দায়িত্ব দেওয়া হলে কাজটি দ্রুত সম্পন্ন হবে।
শিক্ষার্থীদের গণস্বাক্ষর কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রশিবিরের সায়েন্স ফ্যাকাল্টি থানা শাখার সভাপতি কামরান বলেন, আমরা ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে ২৩ ও ২৪ জুন শিক্ষার্থীদের গণস্বাক্ষর নিয়েছি এবং এতে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। আমাদের ৫টি বিলবোর্ডের স্বাক্ষর দেখলেই বোঝা যায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীই কাজটি সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তরের পক্ষে।
সার্বিক বিষয়ে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আরিফুর রহমান সৈকত বলেন, গত ২২ জুন আমাদের ক্যাম্পাসে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আসলে তাঁর সামনে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক ভবন-৩ এর কাজ স্বচ্ছতার সাথে সম্পাদনের জন্য সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তরের দাবি জানান। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীও এই বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। শিক্ষার্থীদের এই দাবির প্রেক্ষিতেই আমরা গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সাড়া পাই। পরবর্তীতে গণস্বাক্ষরসহ উপাচার্য মহোদয় বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হলে তিনিও আমাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে একাডেমিক ভবন-৩ এর নির্মাণকাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপাচার্যের সদয় হস্তক্ষেপ ও জোরালো সুপারিশ কামনা করেছেন সংগঠনটির নোবিপ্রবি শাখার সভাপতি আরিফুর রহমান সৈকত এবং সেক্রেটারি আবদুর রহমান।
সান নিউজ/ কেএনআই
