উচ্চ কোলেস্টেরলকে বলা হয় নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি। কারণ রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলেও অনেক সময় শরীরে কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। অথচ দীর্ঘদিন অতিরিক্ত কোলেস্টেরল থাকলে রক্তনালিতে চর্বিযুক্ত আবরণ জমে হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
জিনগত কারণ, বয়স ও কিছু শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি প্রতিদিনের জীবনযাপনও কোলেস্টেরলের মাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে। এমন কিছু অভ্যাস রয়েছে, যেগুলো এক-দুদিন করলে তেমন ক্ষতিকর মনে না হলেও দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে হৃদ্স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সকালে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার
সকালের নাস্তায় নিয়মিত মাখন, ঘি, চর্বিযুক্ত মাংস, সসেজ, পনির, ক্রিম, পরোটা, ভাজাপোড়া, কেক বা পেস্ট্রি রাখলে খাদ্যতালিকায় স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। হৃদ্স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের বদলে অসম্পৃক্ত চর্বির উৎস বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। American Heart Association-এর ২০২৬ সালের নির্দেশনায় হৃদ্স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে মোট ক্যালোরির ১০ শতাংশের বেশি স্যাচুরেটেড ফ্যাট না রাখার কথা বলা হয়েছে।
‘স্বাস্থ্যকর’ খাবার অতিরিক্ত খাওয়া
বাদাম ও বীজ পুষ্টিকর এবং হৃদ্স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। তবে কোনো খাবার স্বাস্থ্যকর হলেই তা ইচ্ছেমতো খাওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে বাদাম, বীজ বা স্বাস্থ্যকর উপাদান দিয়ে তৈরি খাবার যদি অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত বিস্কুট, কেক, পেস্ট্রি বা প্যাকেটজাত স্ন্যাকসের সঙ্গে নিয়মিত যুক্ত হয়, তাহলে খাদ্যতালিকার সামগ্রিক মান খারাপ হতে পারে।
২০২৬ সালের AHA নির্দেশনায় শাকসবজি, ফল, হোলগ্রেইন, ডাল, বাদাম ও স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের উৎসকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও অতিরিক্ত চিনি কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘসময় বসে থাকা
প্রতিদিন কিছু সময় ব্যায়াম করলেও দিনের বেশিরভাগ সময় যদি ডেস্ক, গাড়ি বা সোফায় বসে কাটে, তাহলে তা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে। নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং নিষ্ক্রিয়তা হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তাই দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা বা সিঁড়ি ব্যবহারের মতো সহজ উপায়ে দৈনন্দিন শারীরিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো যেতে পারে। দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে না থেকে মাঝেমধ্যে উঠে হাঁটা বা দাঁড়ানোর অভ্যাসও করা যেতে পারে।
নিয়মিত চিনিযুক্ত পানীয় পান
সফট ড্রিংকস, অতিরিক্ত মিষ্টি চা-কফি, এনার্জি ড্রিংকস ও চিনিযুক্ত অন্যান্য পানীয় নিয়মিত খেলে খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালোরি যুক্ত হতে পারে। চিনি ও কোলেস্টেরল এক বিষয় নয়, তবে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ওজন ও সামগ্রিক হৃদ্স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
American Heart Association-এর সর্বশেষ নির্দেশনায় চিনি-যুক্ত পানীয় ও খাবারে অতিরিক্ত চিনি কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ধূমপান ও তামাকের সংস্পর্শ
ধূমপান শুধু ফুসফুসের জন্য নয়, হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির জন্যও ক্ষতিকর। ধূমপান রক্তনালির ক্ষতি করে এবং অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস বা ধমনিতে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়ায়। এটি হৃদ্রোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিও।
তাই কোলেস্টেরল ও হৃদ্স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে ধূমপান ছাড়ার পাশাপাশি তামাকের ধোঁয়া থেকে দূরে থাকাও গুরুত্বপূর্ণ।
কী করা উচিত ?
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং তামাক এড়িয়ে চলা জরুরি। খাদ্যতালিকায় বেশি করে শাকসবজি, ফল, হোলগ্রেইন, ডাল, বাদাম ও স্বাস্থ্যকর প্রোটিন রাখা এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও চিনিযুক্ত খাবার কমানো যেতে পারে।
উচ্চ কোলেস্টেরল সাধারণত কোনো লক্ষণ সৃষ্টি করে না। তাই ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা করে কোলেস্টেরলের মাত্রা জানা গুরুত্বপূর্ণ।
সান নিউজ/ জামান
