এক নজরে: বিসিবির নারী ক্রিকেটারদের সুরক্ষা কমিটি
উদ্যোগ: নারী ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যৌন হয়রানির অভিযোগ গ্রহণ ও পর্যালোচনার জন্য স্বাধীন কমিটি গঠন।
নেতৃত্ব: সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম।
কমিটির অন্যান্য সদস্য: ব্যারিস্টার নাজিয়া কবির, ব্যারিস্টার অনিতা গাজী রহমান, জারিন মাহমুদ হোসেন এবং খুব শীঘ্রই যুক্ত হবেন একজন সাবেক নারী ক্রিকেটার।
সচিব: চন্দ্রা ব্যানার্জি।
নিরপেক্ষতা: বিসিবির অভ্যন্তরীণ প্রভাব বা স্বার্থের সংঘাত এড়াতে কমিটিতে বোর্ডের সরাসরি সম্পৃক্ত কাউকে রাখা হয়নি।
পটভূমি: গত বছর সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমসহ বেশ কয়েকজন নারী ক্রিকেটারের পক্ষ থেকে যৌন নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর গঠিত রুবাবা দৌলার তদন্ত কমিটির সুপারিশ ও হাইকোর্টের ২০০৯ সালের নির্দেশনার আলোকেই এই সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ ও অস্বস্তির মেঘ কেটে এক বড় প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের সূচনা হলো। নারী ক্রিকেটারদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং অস্বস্তিকর পরিস্থিতির নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে অবশেষে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও শক্তিশালী কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
পাঁচ সদস্যের এই বিশেষ প্যানেলের নেতৃত্বে থাকছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রথিতযশা আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম, যা ক্রীড়াঙ্গনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আজ বুধবার বিসিবির নারী বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু আনুষ্ঠানিকভাবে এই কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিরপেক্ষতা রক্ষায় বোর্ডের বাইরের যোগ্য মুখেরা কমিটিতে :
নারী ক্রিকেটাররা যেন কোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ চাপ বা ভীতি ছাড়াই তাদের অভিযোগ নির্ভয়ে জমা দিতে পারেন, সে বিষয়টি মাথায় রেখেই কমিটিতে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়েছে। প্যানেলে বিসিবির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কোনো অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তাকে রাখা হয়নি, যাতে স্বার্থের সংঘাতের কোনো সুযোগ না থাকে।
কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার নাজিয়া কবির, ব্যারিস্টার অনিতা গাজী রহমান এবং জারিন মাহমুদ হোসেন।
পাশাপাশি, নারী ক্রিকেটারদের মনস্তত্ত্ব ও মাঠের বাস্তবতার কথা ভেবে কমিটিতে একজন সাবেক নারী ক্রিকেটারকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যদিও তার নাম এখনো চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে, পুরো প্যানেলের সচিব হিসেবে সার্বিক প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন চন্দ্রা ব্যানার্জি।
যে প্রেক্ষাপটে এলো এই সাহসী সিদ্ধান্ত :
গত বছর নারী ক্রিকেটের অন্দরে যৌন নির্যাতনের বিস্ফোরক কিছু অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই ক্রীড়াঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছিল। বিশেষ করে, জাতীয় নারী দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের পক্ষ থেকে দলের ম্যানেজমেন্টের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির গুরুতর অভিযোগ তোলার পর বিষয়টি তীব্র রূপ নেয়।
পরবর্তীতে একে একে আরও বেশ কজন নারী ক্রিকেটার ও দলের সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জনসমক্ষে নিয়ে আসেন।
সেই সময় এই ন্যক্কারজনক ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে রুবাবা দৌলার নেতৃত্বে একটি আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল বিসিবি। ওই তদন্ত কমিটির দীর্ঘ পর্যালোচনার পর বেশ কিছু কঠোর সুপারিশ পেশ করা হয়েছিল, যার অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল বিসিবি বোর্ডের সরাসরি আওতার বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির জন্য একটি স্বতন্ত্র বডি বা কমিটি তৈরি করা।
২০০৯ সালে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনার আলোকে অবশেষে সেই কাঠামোগত প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ঘটাল দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা।
নতুন কমিটির ওপর প্রত্যাশা কতটা :
বিশ্লেষক ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের মতে, বিসিবির এই স্বাধীন কমিটি গঠনের মাধ্যমে নারী ক্রিকেটারদের দীর্ঘদিনের একটি বড় আস্থার সংকট দূর হতে চলেছে। এতদিন প্রভাবশালী মহলের ভয়ে কিংবা অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে অনেক নারী খেলোয়াড় মুখ খুলতে সাহস পেতেন না। এখন নিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্ম তৈরি হওয়ায় নারী ক্রিকেটাররা তাদের সম্মানহানি বা হয়রানির বিরুদ্ধে যেকোনো অন্যায় আচরণের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিকার পাবেন বলে জোরালো প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সান নিউজ / রাজীব
