দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা আরও জোরদার করতে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) সহায়তায় ১২টি রেসকিউ স্পিডবোট হস্তান্তর করেছে সরকার।
দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদারকরণ প্রকল্পের (ডিআরএমইপি) আওতায় দেশের ১২টি দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় জেলার জেলা প্রশাসকদের কার্যালয়ের কাছে এসব নৌযান হস্তান্তর করা হয়। নারায়ণগঞ্জের গোল্ডেন ফাইবার গ্লাস কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, জাপান সরকার ও জাইকার প্রতিনিধি এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
হস্তান্তর করা স্পিডবোটগুলো বরিশাল, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, ভোলা, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, কক্সবাজার, খুলনা, বরগুনা, ঝালকাঠি, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলায় ব্যবহার করা হবে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় জরুরি যোগাযোগ, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে এসব নৌযান কাজে লাগানো হবে।
অনুষ্ঠানে জাইকা বাংলাদেশ অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো বলেন, গত জুলাইয়ে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে আকস্মিক বন্যার সময় জাইকার সহায়তায় দেওয়া রেসকিউ বোটগুলো জরুরি উদ্ধারকাজে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। নতুন নৌযানগুলো দুর্যোগের সময় দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা আরও বাড়াবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
তিনি বলেন, জাপান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে রয়েছে। নতুন নৌযান হস্তান্তর বাস্তবভিত্তিক দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের মাধ্যমে আরও নিরাপদ ও দুর্যোগসহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দুই দেশের অভিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি, সংসদ সদস্য আবুল কালাম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, প্রকল্পের আওতায় দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যাপ্রবণ জেলা ও উপজেলায় আরও ৪৩টি অগভীর পানিতে চলাচল উপযোগী রেসকিউ স্পিডবোট বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোনা ও জামালপুরসহ বিভিন্ন বন্যাপ্রবণ এলাকায় এসব নৌযান বিতরণ করা হবে।
বন্যা ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাড়তে থাকা দুর্যোগঝুঁকি মোকাবিলা এবং জরুরি উদ্ধার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সান নিউজ/ জামান
