এক ঝলক :
┃ তুরস্কে বন্দুকধারীর হামলা
┃ নিহত ............. ৮
┃ গুরুতর আহত ...... ১
┃ আক্রান্ত গ্রাম ... ৩টি
┃ এলাকা ............ আফিয়নকারাহিসার
┃ সন্দেহভাজন ...... লাল গাড়িতে পলায়ন
┃ অবস্থা ........... অভিযান চলছে
তুরস্কের মধ্যপশ্চিমাঞ্চলে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একের পর এক প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পৃথক তিনটি গ্রামে গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও একজন। হামলার পর সন্দেহভাজন বন্দুকধারীকে খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বড় আকারের তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাগুলো ঘটেছে আফিয়নকারাহিসার প্রদেশের গ্রামীণ এলাকায়। রাজধানী আঙ্কারা ও উপকূলীয় নগরী ইজমিরের মাঝামাঝি অবস্থান করা এই অঞ্চলে এক সন্ধ্যায় ধারাবাহিকভাবে হামলার খবর আসতে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন স্থান থেকে হতাহতের তথ্য মিলতে থাকলে নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়।
প্রাদেশিক প্রশাসনের দেওয়া তথ্যমতে, হামলায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের সংখ্যা আটজনে পৌঁছেছে। একই ঘটনায় আহত আরেকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার জীবন বাঁচাতে চিকিৎসকেরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে ইউকারিতান্দির এলাকায় রাস্তার পাশে দুই নারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা শেষ পর্যন্ত তাদের বাঁচাতে পারেননি। পরে পাশের কিয়ির গ্রাম থেকে আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যাদের শরীরেও গুলির চিহ্ন ছিল।
এর কিছু সময় পর আরও পূর্বদিকে অবস্থিত আয়াজিনি গ্রাম থেকেও তিনজন নিহত হওয়ার খবর আসে। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়ায়। ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
হামলার উদ্দেশ্য এবং নিহতদের সঙ্গে হামলাকারীর কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সে বিষয়েও এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে একই অঞ্চলের একাধিক গ্রামে অল্প সময়ের ব্যবধানে সংঘটিত এই হামলা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার পরপরই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। একটি লাল রঙের গাড়িতে করে তিনি এলাকা ত্যাগ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ তার পিছু নেয় এবং বিভিন্ন সড়কে নজরদারি জোরদার করা হয়।
তবে সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা সম্ভব হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানানো হয়নি। ফলে আততায়ী এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই হামলার পর শান্ত গ্রামীণ জনপদগুলোতে নেমে এসেছে ভীতি ও অনিশ্চয়তা। স্বজন হারানোর শোকে ভারী হয়ে উঠেছে কয়েকটি পরিবার। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে। তদন্তকারীরা হামলার পেছনের কারণ খুঁজে বের করার পাশাপাশি পলাতক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।
তুরস্কে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ এই বন্দুক হামলা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এখন সবার নজর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান অভিযানের দিকে, কারণ হামলার নেপথ্যের রহস্য উন্মোচন এবং দায়ী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সান নিউজ / রাজীব
