ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনটা বাংলাদেশের জন্য ছিল মিশ্র অভিজ্ঞতার। একদিকে তাওহিদ হৃদয়ের ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি, অন্যদিকে একের পর এক উইকেটের পতন। লাঞ্চের বিরতিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ২০৫ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের ৩৫৬ রানের জবাবে এখনো ১৫১ রানে পিছিয়ে স্বাগতিকেরা।
সেশনের হিসাব :
২৯ ওভারের এই সেশনে বাংলাদেশ তুলেছে ১১৭ রান, বিনিময়ে হারিয়েছে চার উইকেট। রানের গতি ছিল ওভারপ্রতি প্রায় তিনের কাছাকাছি, যা টেস্টের মানদণ্ডে খুব খারাপ নয়। কিন্তু উইকেট হারানোর ধারাটাই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সেশনে বাংলাদেশ হারিয়েছে এই চার ব্যাটসম্যানকে:
– মুশফিকুর রহিম
– লিটন দাস
– মেহেদী হাসান মিরাজ
– হাসান মাহমুদ
স্পিনের সামনে অসহায় অভিজ্ঞরা :
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান সেশনের নায়ক। ২৫ ওভারে ৬০ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নিয়েছেন তিনি, যার মধ্যে ছয়টি ওভার ছিল মেডেন। তার বলের সামনে বারবার অস্বস্তিতে পড়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা।
বিশেষ করে লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিমের মতো অভিজ্ঞ দুজন স্পিন ঠিকভাবে সামলাতে পারেননি। ধৈর্য ধরে খেলার যে পরীক্ষা, সেটাতে তারা উতরাতে ব্যর্থ হয়েছেন।
উইকেট এখনো ব্যাটসম্যানদের পক্ষে :
তবে পিচ নিয়ে অজুহাত দেওয়ার সুযোগ কম। উইকেট এখনো ব্যাটিংয়ের জন্য কঠিন হয়ে ওঠেনি। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ তাওহিদ হৃদয়ের ইনিংস। তিনি দেখিয়েছেন, ঠান্ডা মাথায় আর সঠিক কৌশলে খেললে এই উইকেটেও রান করা সম্ভব।
শতকের মুহূর্ত: যেভাবে এল তিন অঙ্ক :
সেশনের সবচেয়ে নাটকীয় অংশটা ছিল হৃদয়ের সেঞ্চুরির আশপাশের মুহূর্তগুলো।
৯১ থেকে ৯৯: ৬৬তম ওভারে ওয়ারিকানের বদলে চেজ বল করছিলেন। সেই ওভারে হৃদয় একটি বড় শট খেলেন। সামনের পা বাড়িয়ে ব্যাট ঘুরিয়ে বলটি পাঠান ডিপ স্কয়ার লেগ সীমানার বাইরে। পুরো নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও শটটি চার হয়ে যায়।
একটুর জন্য বঞ্চিত: ৬৭তম ওভারে সিলস করছিলেন বল। ওভারের চতুর্থ বলে ফাইন লেগ দিয়ে চার মেরে হৃদয় পৌঁছান ৯৯ রানে। ওই চারেই দলের স্কোর ২০০ ছাড়ায়। পরের বলে শরীর লক্ষ্য করে আসা শর্ট বল ফাইন লেগের দিকে ঠেলে এক রান নেন তিনি। সবাই ভেবেছিলেন সেঞ্চুরি হয়ে গেছে। কিন্তু রানটি লেগ বাই হিসেবে গণ্য হওয়ায় হৃদয়ের নামে যোগ হয়নি। মুহূর্তের জন্য পুরো ব্যাপারটা হয়ে ওঠে অনেকটা অ্যান্টি-ক্লাইম্যাক্স।
অবশেষে তিন অঙ্কে: ৬৮তম ওভারের প্রথম বলেই আর কোনো সন্দেহ রইল না। চেজের করা স্টাম্পে আসা লেংথ বল স্কয়ার লেগের দিকে খেলে এক রান নিয়ে হৃদয় পূর্ণ করেন নিজের প্রথম টেস্ট শতক। হেলমেট খুলে ব্যাটের হাতলে রেখে সেটি উঁচু করে ধরে উদযাপন করেন তিনি।
সেঞ্চুরির পেছনের গল্প :
এই শতকের আগে হৃদয় ছিলেন দারুণ ছন্দে। সাম্প্রতিক এক প্রথম শ্রেণির ম্যাচে তিনি অপরাজিত ৩৫০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। সেই আত্মবিশ্বাসই যেন টেস্টে প্রতিফলিত হলো। ১৬১ বলের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৯টি চার ও ১টি ছক্কায়। লাঞ্চে যাওয়ার সময় তিনি অপরাজিত আছেন, সঙ্গে ক্রিজে আছেন তাইজুল ইসলাম।
লাঞ্চের পর কী হবে :
বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি এখনো কঠিন। সাত উইকেট পড়ে গেছে, আর শাদমান ইসলামের ব্যাট করতে নামার সম্ভাবনা কম। তাই বাস্তবে ধরা যায়, আট উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। হাতে আছে মাত্র দুটি পূর্ণ উইকেট, আর ১৫১ রানের ঘাটতি তো আছেই।
লাঞ্চের পর হৃদয়ের ব্যাটে ভর করে ঘাটতি কতটা কমানো যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ওয়ারিকান আর সিলসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে তাইজুল ও হৃদয়কে। বাংলাদেশ সমর্থকদের আশা, এই জুটি যত বেশি সময় টিকবে, দলের জন্য ততই ভালো।
সান নিউজ / রাজীব
