টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। সড়ক, অলিগলি, বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও টয়লেট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাও অচল হয়ে পড়েছে। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ সদস্যদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন অনেক পরিবার।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকতে দেখা যায়। আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, হালিশহর, পাঁচলাইশ, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর, পতেঙ্গা, কুয়াইশ, আকমল আলী সড়ক, হাজীপাড়া, লালদিঘির পাড়, সিঅ্যান্ডবি মোড়, পলিটেকনিক মোড়, গোলপাহাড় ও কাজীরহাটসহ নগরীর অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৩৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানায়, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী আরও দুই দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি পাহাড়ধসেরও আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
এদিকে টানা বৃষ্টিতে রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী আন্তঃনগর পর্যটক এক্সপ্রেস নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি।
রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদ বলেন, রেললাইনের ওপর অতিরিক্ত পানি জমে থাকায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রেনটির যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া বিকল্প কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ ছিল না।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেসব যাত্রীর ভ্রমণ বাতিল হয়েছে, তাদের টিকিটের সম্পূর্ণ মূল্য ফেরত দেওয়া হবে।
সান নিউজ/ জামান
