ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে এক ভয়াবহ রাত কাটিয়েছে সাধারণ মানুষ। বুধবার রাতজুড়ে রুশ বাহিনী বড় ধরনের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যাতে অন্তত ১০ জন নিহত এবং ৫৬ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
আহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে এবং কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
একযোগে ৩৬ এলাকায় হামলা
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎশ্চিকো এবং রাজধানীর সামরিক প্রশাসনের প্রধান তাইমুর টিকাচেঙ্কো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পৃথক বার্তায় জানান, শহর ও এর আশপাশের অন্তত ৩৬টি স্থানে একযোগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।
হামলার লক্ষ্য ছিল মূলত অবকাঠামো, সামরিক স্থাপনা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ কেন্দ্রগুলো।
রাশিয়ার দাবি: সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে হামলার দায় স্বীকার করে জানায়, এটি একটি “সুনির্দিষ্ট সামরিক অভিযান”। তাদের দাবি, ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর ঘাঁটি ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার উচ্চ-নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
রুশ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি রাশিয়ার বেসামরিক স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
হামলার সময় বিদেশ সফরে ছিলেন জেলেনস্কি
হামলার সময় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আয়ারল্যান্ডে একটি সরকারি সফরে ছিলেন। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তিনি সফর সংক্ষিপ্ত করে দ্রুত দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নতুন করে হামলা শুরু হলে সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে হবে।
উদ্বেগজনক পরিস্থিতি অব্যাহত
টানা হামলার কারণে কিয়েভে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন জরুরি সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
চলমান সংঘাত আরও তীব্র রূপ নেওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে।
