মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়া কয়েকটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার পর উপকূলীয় রাডার স্টেশন লক্ষ্য করে পাল্টা সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালির দিকে আসা চারটি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ তারা প্রতিহত করেছে। তাদের দাবি, এই ড্রোনগুলো বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক জাহাজের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছিল।
ড্রোন প্রতিহতের পর সম্ভাব্য নতুন হামলা ঠেকাতে ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপে থাকা উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্টেশনগুলোতে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালানো হয় বলে জানায় সেন্টকম।
তবে এই হামলা নিয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে পরিস্থিতি আরও অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
এর আগে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানি ড্রোন হামলায় প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়। তবে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলের ফল হতে পারে।
অন্যদিকে মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, কুয়েতের ঘটনায় ইরানই সরাসরি জড়িত ছিল।
এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পাল্টাপাল্টি হামলা ও প্রতিরোধমূলক সামরিক পদক্ষেপের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যেখানে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি পরিবহন হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাত যদি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে এটি পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
