ইরানের মানবাধিকার কর্মী ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নার্গিস মোহাম্মদীকে কারাগার থেকে তেহরানের একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তার পরিবারের পরিচালিত একটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, বড় অংকের জামিনের শর্তে তার সাজা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
পরিবার ও সমর্থকরা গত সপ্তাহেই সতর্ক করেছিলেন, চলতি বছরের শুরুতে সন্দেহজনকভাবে দুইবার হার্ট অ্যাটাকের পর কারাগারে তার জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। নার্গিস মোহাম্মদী ২০২৩ সালে নারীদের অধিকার ও মানবাধিকার আন্দোলনের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার পান।
তিনি বর্তমানে ইরানের তেহরান পার্স হাসপাতালে নিজস্ব চিকিৎসক দলের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর আগে তিনি উত্তর ইরানের জাঞ্জান শহরের কারাগারে ১০ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন।তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার অনুরোধের পরই তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তার স্বামী প্যারিসে থাকেন।
তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয় এবং স্থিতিশীলও নয়। তার আইনজীবীর মতে, কারাগারে থাকাকালীন তিনি প্রায় ২০ কেজি ওজন হারিয়েছেন, কথা বলতেও তার সমস্যা হচ্ছে এবং তাকে এখন প্রায় চেনা যাচ্ছে না।
ইরানের মানবাধিকার কর্মী নার্গিস মোহাম্মদী ২০২১ সালে ‘রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রচারণা’ এবং ‘জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র’ করার অভিযোগে ১৩ বছরের কারাদণ্ড ভোগ শুরু করেন। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে চিকিৎসার কারণে তাকে তেহরানের কুখ্যাত এভিন কারাগার থেকে সাময়িকভাবে মুক্তি দেওয়া হয়। এর আগে কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি স্মরণসভায় ‘উস্কানিমূলক বক্তব্য’ দেওয়ার কারণে তাকে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়। তার পরিবার দাবি করে, গ্রেপ্তারের সময় তাকে মারধর করা হয় এবং পরে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ফেব্রুয়ারির শুরুতে একটি বিপ্লবী আদালত তাকে আবারও ‘সমাবেশ ও ষড়যন্ত্র’ এবং ‘প্রচারণামূলক কার্যকলাপ’-এর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে অতিরিক্ত সাড়ে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয় বলে জানান তার আইনজীবী। গত মাসে তার ভাই জানান, জানজান কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সন্দেহে সহবন্দিরা তাকে অচেতন অবস্থায় খুঁজে পায়।
তার পরিবারের পরিচালিত ফাউন্ডেশন বলছে, শুধু সাময়িক মুক্তি যথেষ্ট নয়, তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও বিশেষায়িত চিকিৎসা দরকার। তারা আরো দাবি করেছে, তাকে যেন আর কারাগারে ফিরতে না হয় এবং সব অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হয়।
সাননিউজ/আরএ
