মিরপুরে বল হাতে রীতিমতো গতির ঝড় তুলেছেন পেসার নাহিদ রানা। নিজের প্রথম তিন ওভারে টানা তিন উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানের টপ অর্ডার একাই গুঁড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। ১০ম ওভারে ওপেনার সাহিবজাদা ফারহানকে ফেরানোর পর নিজের পরের দুই ওভারেও দুই ব্যাটারকে সাজঘরে পাঠিয়েছেন তিনি। ১২ ওভারে পাকিস্তানের রান ২ উইকেটে ৫১। ক্রিজে মাজ সাদকাতের সঙ্গী মোহাম্মদ রিজওয়ান।
ইনিংসের দশম ওভারে প্রথম ব্রেক থ্রু পাওয়ার পর ১২তম ওভারে আবারও আঘাত হানেন নাহিদ। দলীয় ৪৭ রানের মাথায় তার বলে দ্বিতীয় উইকেট হারায় পাকিস্তান। ক্রিজে এসে শুরু থেকেই অস্বস্তিতে ছিলেন তিন নম্বরে নামা অভিষিক্ত শামিল হুসাইন। নাহিদের পেস সামলাতে না পেরে শুরুতে শট তুলে খেলে ফিল্ডার তানজিদ হাসানের কল্যাণে একবার ‘জীবন’ পান তিনি। কিন্তু ১২তম ওভারে সেই নাহিদের গতির কাছে পরাস্ত হয়ে আবারও আকাশে বল তুলে দেন শামিল। এবার আর কোনো ভুল করেননি উইকেটকিপার লিটন দাস। ৭ বলে মাত্র ৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। তার বিদায়ের পর চার নম্বরে ব্যাট করতে নামেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান।
শামিলকে ফেরানোর ঠিক এক ওভার পর আবারও বল হাতে ভেলকি দেখান নাহিদ। এবার তার শিকার হন আরেক ওপেনার মাজ সাদাকাত। ওভারের চতুর্থ বলে সাইফ হাসানের হাতে দারুণ এক ক্যাচ বানিয়ে সাদাকাতকে প্যাভিলিয়নে পাঠান তিনি। আউট হওয়ার আগে ২৮ বল খেলে ১৮ রান করেন এই ওপেনার।
বোলিংয়ে এসেই বাজিমাত করলেন নাহিদ রানা। ইনিংসের দশম ওভারে প্রথমবারের মতো আক্রমণে এসে শেষ বলে সাহিবজাদা ফারহানকে (২৭) ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন তিনি। আফিফ হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই অভিষিক্ত পাক ওপেনার। ফারহানের বিদায়ে তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমেছেন আরেক অভিষিক্ত ব্যাটার শামিল হুসাইন।
পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে আজ টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। প্রথম ওয়ানডেতে দুই স্পিনার ও তিন পেসার নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে বাংলাদেশ। ওয়ানডে দলে ফেরা লিটন দাস ও আফিফ হোসেন জায়গা পেয়েছেন একাদশে। প্রথম ম্যাচে জায়গা হয়নি তানভির ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, সৌম্য সরকার ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের।
এদিকে চার অভিষিক্তকে নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে পাকিস্তান। দেশের হয়ে প্রথমবার ওয়ানডে খেলবেন সাহিবজাদা ফারহান, মাজ সাদাকাত, শামিল হুসাইন ও আব্দুল সামাদ। নিজের শততম ম্যাচ খেলতে নামছেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ রিজওয়ান।
বাংলাদেশ একাদশ: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, আফিফ হোসেন, রিশাদ হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা।
পাকিস্তান একাদশ: শাহিন শাহ আফ্রিদি (অধিনায়ক), আব্দুল সামাদ, আবরার আহমেদ, ফাহিম আশরাফ, হুসাইন তালাত, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মাদ রিজওয়ান, মোহাম্মাদ ওয়াসিম, সাহিবজাদা ফারহান, সালমান আলি আগা, শামিল হুসাইন।
সান নিউজ/আরএ
