বাইরের চাপ থাকা সত্ত্বেও চীন ও রাশিয়ার সম্পর্ক অত্যন্ত শক্তিশালী এবং স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। রবিবার জাতীয় গণকংগ্রেসের ১৪তম অধিবেশনের চতুর্থ সেশনের ফাঁকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ওয়াং ই বলেন, চীন ও রাশিয়ার নতুন যুগের সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব একটি নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মূলভাবকে ধারণ করে। এটি বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে সম্পর্কের নতুন দিকনির্দেশনা তুলে ধরে। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশ কৌশলগত স্বাধীনতা বজায় রাখে এবং রাজনৈতিকভাবে একে অপরের ওপর উচ্চ পর্যায়ের আস্থা উপভোগ করে। আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতেও দুই দেশ ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রেখে চলে।
দুই দেশের সম্পর্কের মূল ভিত্তি ‘পিঠে-পিঠ মিলিয়ে কাজ করা’ নীতি উল্লেখ করে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই কৌশলগত দৃঢ়তাই যেকোনও বাহ্যিক উসকানি বা চাপের বিরুদ্ধে চীন-রাশিয়া সম্পর্ককে টিকে থাকতে সক্ষম করে। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, প্রায় ৮০ বছর আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দুই দেশ যৌথভাবে অবদান রেখেছিল। আট দশক পরেও বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার বিকাশে তারা একসঙ্গে কাজ করে যাবে।
একই সংবাদ সম্মেলনে ওয়াং ই জানান, চীনের কূটনৈতিক নীতিতে সবসময় প্রতিবেশী দেশগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। একে অপরকে সহায়তা এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা চীনা ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ। আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চীন সবসময় একটি নির্ভরযোগ্য ভিত্তি এবং উন্নয়নের শক্তিশালী চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
গত এক বছরে রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে হওয়া ব্যাপক কূটনৈতিক আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এটি বড় শক্তিগুলোর মধ্যে সংলাপের নতুন নজির সৃষ্টি করেছে। এই উচ্চপর্যায়ের তৎপরতা ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর দেশগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যের অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে এবং বিশ্বশান্তি ও আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার রক্ষায় শক্তিশালী আহ্বান হিসেবে কাজ করছে।
সূত্র: সিনহুয়া
