কুড়িগ্রামের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। দেশের অখণ্ডতা রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বাহিনীটি।
শনিবার (৯ মে) কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক।
জানা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে দুই জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। নিহতদের একজন মুরসালিন (১৯)। তিনি আলহাজ্ব শাহ আলম ডিগ্রি কলেজের ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। অপরজন মধুপুর গ্রমের মৃত মরম আলীর ছেলে নবির হোসেন (৪০)
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে কসবা উপজেলার ধজনগর এলাকার ত্রিপুরা সীমান্তের মানিক্যমুড়ি এলাকায় একদল ব্যক্তি (প্রায় ৩০-৩৫ জন) তারকাঁটার বেড়ার কাছে অবস্থান করছিলেন। এ সময় বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই মুরসালিন ও নবির হোসেন নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন।
চন্ডিদ্বার বিওপি কমান্ডার জানান, তিনি প্রথমে জানতে পেরেছেন একজন নিহত হয়েছেন। তবে পরে জানাতে পারেন দুজন বিএসএফ এর গুলিতে নিহত হয়েছেন।
কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামিউল ইসলাম জানান, তিনিও শুনতে পেরেছেন দুজন নিহত হয়েছেন। এ বিষয়ে বিজিবি কাজ করছে বলে তিনি জানান।
সর্ব শেষ খবরে চন্ডিদ্বার বিওপি কমান্ডার জানান, সুবেদার মইন উদ্দিন সমকালকে জানান, লাশ দুটি ভারতীয় বিএসফের নিকট রয়েছে। পতাকা বৈঠক শেষে বিএসএফ বিজিবির কাছে লাশ হস্থান্তর করা হবে । এ ব্যপারে বিএসএফ এর নিকট চিঠি দিয়েছেন বলে বিজিবি জানান।
বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে “জিরো টলারেন্স” নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
লে. কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক বলেন, কুড়িগ্রাম জেলার সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিজিবি সবসময় প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তে যেকোনো অপতৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে। ইতোমধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার পাশাপাশি যেকোনো সন্দেহজনক তথ্য দ্রুত বিজিবিকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
