গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জমির দলিল আটকে দেওয়ার কথা বলে নগদ ৩৩ লাখ টাকা ও একটি স্বর্ণের আংটি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সাব-রেজিস্টার মো. নাজমুল হুদা ও তার অফিসের পিয়ন মো. আবদুস সালাম মিয়ার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি দলিল সম্পন্ন হওয়ার পর বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী মোছাঃ বিউটি বেগমের বাবার বাড়ি বরিশাল জেলায়। ১৯৮৮ সালে তিনি রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর দিগর গ্রামের শ্রী বকুল ঘোষকে বিয়ে করেন। বিয়ের আগে তার স্বামী ইসলাম গ্রহণ করলে নাম রাখা হয় মো. বাবলু মিয়া। ২০১১ সালে তার শ্বশুর মদন মোহন ঘোষ ২ একর জমি বিউটি বেগমের নামে দলিল করে দেন।
স্বামী প্রবাসে (সৌদি আরব) অবস্থানকালে ২০১৫ সালে মারা যান। পরবর্তীতে শ্বশুরবাড়ির লোকজন অন্যত্র চলে গেলে বিউটি বেগম সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নে বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তিনি সেখানে বসবাস করছেন।
সাব-রেজিস্টার অফিস সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট জমির পরিমাণ ১ একর ১৪.৫ শতাংশ। গত মাসের ৯ তারিখে দলিলটি সম্পন্ন হয়। দলিল নং ১৪০৪। দাতা: মৃত অক্ষয় কুমার ঘোষের ছেলে মদন মোহন ঘোষ। গ্রহীতা: মৃত মো. কছিম উদ্দিন ব্যাপারীর ছেলে আলহাজ্ব মো. হাবিবুর রহমান। গ্রহীতার বাড়ি সুন্দরগঞ্জ উপজেলায়।
মোছাঃ বিউটি বেগম দাবি করেন, তার জমি অন্যের নামে দলিল করার চেষ্টা চলছে জানতে পেরে তিনি সাব-রেজিস্টার অফিসে যান। সেখানে পিয়ন মো. আবদুস সালাম মিয়া তাকে জানান, টাকা দিলে দলিল ঠেকানো যাবে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে ২০ হাজার, ১০ হাজার ও ৫ হাজার টাকা করে মোট ৩১ লাখ টাকা পিয়নকে দেন। এছাড়া হাতে থাকা একটি স্বর্ণের আংটিও দেন। পরবর্তীতে সাব-রেজিস্টার অফিসারকেও ২ লাখ টাকা দেওয়ার দাবি করেন তিনি।
বিউটি বেগমের অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পরও দলিল সম্পন্ন হয়ে গেছে। বিষয়টি জানতে চাইলে সাব-রেজিস্টার তাকে জানান, “দলিল পার হয়েছে, তাতে কী হয়েছে?”— এমন মন্তব্যও করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে জমির গ্রহীতা আলহাজ্ব মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি জমি ক্রয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেন এবং গত মাসের ৯ তারিখে দলিল সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ সময় ধরে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমি বিউটি বেগমের জমি জোরপূর্বক নিইনি। কেউ প্রমাণ করতে পারলে জমি ফিরিয়ে দিতে প্রস্তুত আছি।”
পিয়ন মো. আবদুস সালাম মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি বিউটি বেগমকে চিনলেও তার কাছ থেকে কোনো টাকা বা আংটি নেননি।
অভিযুক্ত সাব-রেজিস্টার মো. নাজমুল হুদা বলেন, অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তিনি কোনো টাকা নেননি বলে দাবি করেন। অফিসের কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে দিতে হবে, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া তিনি বলেন, “দলিল কখনো আটকানো যায় না। কাগজপত্র সঠিক থাকলে বিধি অনুযায়ী দলিল সম্পন্ন হবে।”
অভিযোগ-প্রতিআভিযোগের মধ্যে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
আমারবাঙলা/এসএবি
