মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রতিবেদন থেকেও নারী ও শিশু নির্যাতনের উদ্বেগজনক তথ্য বেরিয়ে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত পারিবারিক সহিংসতার ৫৬০টি ঘটনা ও ৭৪৯টি ধর্ষণের খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অর্ধেকের বয়সই ছিল ১৮ বছরের নিচে, অর্থাৎ শিশু। বছরজুড়ে ১ হাজার ২৩টি শিশু নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
গত বছরের নভেম্বর মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, গবেষণায় অংশ নেওয়া নারীদের ৬৬ শতাংশের বেশি গণপরিবহনে, ডিজিটাল জগতে ও পারিবারিক বৃত্তে ঘটা সহিংসতাকে গুরুতর সমস্যা বলে মনে করেন।
নারীর প্রতি সহিংসতার বড় একটি ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। রাজনীতিতে সক্রিয় নারী, সংস্কৃতিকর্মী, নারী খেলোয়াড়, উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থী—কেউই অনলাইন সহিংসতা থেকে রেহাই পাননি। সংঘবদ্ধভাবে বিদ্বেষমূলক ও যৌন হয়রানিমূলক মন্তব্যের সঙ্গে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, অনলাইন সহিংসতার ক্ষেত্রে আইনি প্রতিকার ও সামাজিক প্রতিরোধ না থাকায় নারীর নিরাপত্তাহীনতা বহুগুণ বেড়েছে।
বাস্তব ও ডিজিটাল পরিসরের সহিংসতার পাশাপাশি মব সন্ত্রাস ও নীতি পুলিশিংয়ের ঘটনায় জনপরিসরে নারীর নিরাপত্তাহীনতার বোধ আরও বেড়েছে। আসকের প্রতিবেদনে ২০২৫ সালে মব সন্ত্রাসে অন্তত তিনজন নারীর নিহত হওয়ার তথ্য জানা যাচ্ছে। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকার লালমাটিয়ায় মব সহিংসতার শিকার হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। নারীকে প্রকাশ্যে লাঠিপেটা করার ঘটনাও ঘটেছে। বাসসহ গণপরিবহনেও যৌন নিপীড়ন, কটূক্তি ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বেড়েছে।
নারী যদি ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে থাকেন, তাহলে অর্থনীতিসহ সামাজিক সূচকগুলোতে বাংলাদেশের যে দৃশ্যমান অগ্রগতি, তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের ইশতেহারে নারীর নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সরকার এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে নারীর সুরক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।
