ঢাকার সাভারে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া চাল উত্তোলনে মন্দির কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে চাল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্বাক্ষর নকল করে উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে চাল উত্তোলনের অভিযোগ করে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন একাধিক মন্দির কমিটির নেতারা।
অভিযোগকারীদের দাবি, শুধু একটি-দুটি মন্দির নয়, উপজেলার বিভিন্ন পূজামন্ডপের বরাদ্দ করা চাল একই কায়দায় উত্তোলন করা হয়েছে। এর পেছনে একটি প্রভাবশালী চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে তাঁদের সন্দেহ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় এ বছর সাভার উপজেলার ২৩৪টি মন্দিরে দুর্গাপূজার জন্য সরকারি অনুদান হিসেবে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর আগে প্রতি মন্দিরে ৫০০ কেজি করে চাল দেওয়া হতো। সাভার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ ফাইজুল ইসলাম ২৩৪ টি মন্দিরের বিপরীতে চাল বরাদ্দের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিয়ম অনুযায়ী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সত্যায়িত ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) সংগ্রহের পর সংশ্লিষ্ট মন্দির কমিটির সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদককে সশরীরে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে স্বাক্ষর করতে হয়। এরপর সেই স্বাক্ষরের ভিত্তিতে খাদ্য গুদাম থেকে চাল উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, এ নিয়ম অনুসরণ না করেই একাধিক মন্দিরের চাল উত্তোলন করা হয়েছে।
আশুলিয়ার গুরু দয়াল পলানের আঙিনা সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক শম্ভু চন্দ্র সরকার বলেন, পূজার ব্যস্ততা শেষে খাদ্য গুদামে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁর স্বাক্ষর ব্যবহার করে আগেই বরাদ্দের চাল উত্তোলন করা হয়েছে। ডিও অন্যত্র বিক্রি করেছিলেন বলে স্বীকার করলেও চাল খালাসের জন্য খাদ্য বিভাগের কার্যালয়ে গিয়ে তিনি কোনো স্বাক্ষর করেননি। তাঁর অভিযোগ, অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাঁর স্বাক্ষর জাল করে চাল তুলে নিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন নরসিংহপুর সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের সভাপতি আশিষ চন্দ্র নাথ, নৈহাটি সরকার বাড়ি সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের সভাপতি সুবিমল অধিকারী এবং বেরন এলাকার মহামায়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়। তাঁদের দাবি, তাঁদের অজান্তে স্বাক্ষর জাল করে চাল উত্তোলন করা হয়েছে। একইভাবে উপজেলার আরও অনেক মন্দিরের বরাদ্দের চাল সরিয়ে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাভার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলেন, আমি আপনাদের কাছে হাতজোড় করে বলছি, এগুলো নিয়ে লিখবেন না। ভুক্তভোগী শম্ভু দাদাকে ডেকে এনে আমরা একসঙ্গে বসে সমাধান করব। এসব নিয়ে লেখালেখি হলে দেশের মানুষ বলবে পূজার বরাদ্দ নিয়ে কেলেঙ্কারি হয়েছে।
সরকারি অনুদানের চাল বিতরণে এমন অনিয়ম ও স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে মন্দির কমিটির নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। তাঁরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, বরাদ্দের চাল কারা উত্তোলন করেছেন তা যাচাই এবং জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মন্দির কমিটির নেতারা।
সাননউিজ/বান্না
