ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষবাষ্পে দেশের সমবায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই গভীর সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রচলিত আইনের যুগোপযোগী সংস্কারের পাশাপাশি প্রতিটি সমবায় ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোরালো তাগিদ দিয়েছেন।
আজ রোববার সকালে রাজধানী ঢাকার ঐতিহাসিক ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘জাতীয় সমবায় দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গ্রামীণ অর্থনীতির মূল চাবিকাঠি সমবায় :
সমবায় আন্দোলনকে কেবল সাধারণ কোনো বাণিজ্যিক উদ্যোগ বা পণ্য উৎপাদনের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ নেই বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তার মতে, এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির প্রকৃত বিকাশ, বেকারত্ব দূর করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং প্রান্তিক ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার সুদূরপ্রসারী সম্ভাবনা। এই অমিত সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে একটি স্বনির্ভর ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সমবায় খাতকে একটি ফলপ্রসূ হাতিয়ার হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করার ডাক দেন তিনি।
অতীতে সমবায়ের প্রাণচাঞ্চল্য ও বর্তমানের অবক্ষয় :
নিজের শৈশব ও স্মৃতির কথাচারণ করতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ছোটবেলায় ঠাকুরগাঁওয়ের মতো একটি মফস্বল শহরেও সমবায় কার্যক্রমের দারুণ প্রাণবন্ত ও উৎসাহব্যঞ্জক উপস্থিতি তার চোখে পড়েছে।
সেসময়ে সেখানে নিজস্ব সমবায় ভবন, আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ এবং সমবায়ীদের জন্য ডেডিকেটেড মার্কেট চালুর পাশাপাশি শহরের গণ্যমান্য ও প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরাও এই আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
কিন্তু সময়ের নির্মম পরিক্রমায় সেই ঐতিহ্যবাহী ও গতিশীল সমবায় ব্যবস্থার ছবিটা আজ পুরোপুরি পাল্টে গেছে। অতীতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সমবায়কে ঘিরে যে ব্যাপক উদ্দীপনা ও কর্মচাঞ্চল্য দেখা যেত, বর্তমান সময়ে তার ছিটেফোঁটাও খুঁজে পাওয়া যায় না।
বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস :
বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান যুদ্ধবিগ্রহ ও ভূ-রাজনৈতিক সংকটের প্রভাবে দেশের জ্বালানি খাতসহ পুরো অর্থনীতিতেই নানা ধরনের কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন রাষ্ট্রপতি।
এই বৈশ্বিক প্রতিকূলতা সফলভাবে মোকাবিলা করা এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার সচল চাকা ধরে রাখতে দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল স্তরের মানুষকে এক হয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিকল্প নেই :
সমবায় খাতের স্থবিরতা কাটানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, মূলত সর্বগ্রাসী দুর্নীতির কারণেই দেশের অসংখ্য সমবায় সমিতি তাদের কাঙ্ক্ষিত কার্যকারিতা ও গৌরব হারিয়ে ফেলেছে।
এই ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে সমবায়ের প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কঠোর স্বচ্ছতা এবং নিখুঁত জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করার কোনো বিকল্প নেই।
সান নিউজ / রাজীব
