⚡ এক নজরে দিল্লি স্টেডিয়াম সংকট ও ভারত-শ্রীলঙ্কা সিরিজ
• মূল সমস্যা: অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামের আউটফিল্ড বালুভিত্তিক (স্যান্ড-বেসড) সারফেসে রূপান্তরের কাজ চলায় ১৩ ডিসেম্বরের প্রথম ওয়ানডে অনিশ্চিত।
• সময়কাল: সংস্কারকাজ শেষ হতে ৩-৪ মাস লাগায় ২০২৭ আইপিএলের আগেও এখানে ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা প্রায় নেই।
• ভক্তদের হতাশা: ঘরের মাঠে বিরাট কোহলিকে দেখতে না পাওয়ার শঙ্কা।
• ওয়ানডে সূচি: ১৩ ডিসেম্বর (দিল্লি – সংশয়), বেঙ্গালুরু (আইপিএল নিলামের দিন), ১৯ ডিসেম্বর (আহমেদাবাদ)।
• টি-টোয়েন্টি সূচি: ২২ ডিসেম্বর (রাজকোট), ২৪ ডিসেম্বর (কটক), ২৭ ডিসেম্বর (পুনে)।
ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এক বিরাট ধাক্কা এবং চরম অনিশ্চয়তার কালো মেঘ জমেছে ভারতীয় ক্রিকেট অঙ্গনে। আগামী মাসেই প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাঠে সীমিত ওভারের রোমাঞ্চকর সিরিজ খেলতে নামছে টিম ইন্ডিয়া। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৩ ডিসেম্বর দিল্লির ঐতিহাসিক অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচটি গড়ানোর কথা ছিল।
কিন্তু মাঠের আধুনিকায়ন ও সংস্কারকাজের দীর্ঘসূত্রিতা এবং নানা জটিলতার কারণে এই ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজন এখন পুরোপুরি অনিশ্চয়তার চোরাবালিতে আটকে গেছে। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার উত্তেজনাকর সেই স্মরণীয় লড়াইয়ের পর এই মাঠে আর কোনো ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। এমনকি সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বরে ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যকার টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি আয়োজিত হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে দিল্লির বিখ্যাত এই স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরার আশা যেন ফিকে হয়ে আসছে।
আধুনিকায়নের চক্করে ঝুলে গেল দিল্লির ক্রিকেট ভাগ্য : ভারতীয় গণমাধ্যমের বিশ্বস্ত সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামের পুরো আউটফিল্ডকে একটি নিখুঁত ও আধুনিক বালুভিত্তিক (স্যান্ড-বেসড) সারফেসে রূপান্তর করার বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। আধুনিক ক্রিকেটের দাবি মিটিয়ে উন্নত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এবং বৃষ্টির বাগড়া থেকে মুহূর্তেই মাঠ রক্ষা করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দেশের অন্যান্য অনেক আধুনিক ভেন্যু যেমন মুল্লানপুর কিংবা লক্ষ্ণৌর মতো ৭৫ শতাংশ স্টেডিয়াম ইতিমধ্যে এই প্রযুক্তির আওতায় আসায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াতেও দ্রুত ম্যাচ শুরু করা সম্ভব হয়। তবে ডিডিসিএ বা দিল্লি অ্যান্ড ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের এই সুদূরপ্রসারী সংস্কারকাজ শেষ হতে অন্তত আরও তিন থেকে চার মাস সময় লেগে যেতে পারে।
দীর্ঘ সময়সীমার কারণে কেবল ডিসেম্বরের ওয়ানডে ম্যাচই নয়, এমনকি আসন্ন ২০২৭ সালের আইপিএল শুরুর আগেও দিল্লির অরুণ জেটলি মাঠে কোনো ধরনের ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রেস্টিজিয়াস রঞ্জি ট্রফির হোম ম্যাচগুলোও বাধ্য হয়ে পালাম এলাকার এয়ারফোর্স কমপ্লেক্স গ্রাউন্ডে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
বিরাট কোহলিকে ঘরের মাঠে দেখতে পাওয়ার অপেক্ষায় কোটি ভক্তের হাহাকার : দিল্লির সন্তান এবং বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র বিরাট কোহলিকে নিজের শহরের মাঠে ব্যাট হাতে দেখতে মুখিয়ে ছিলেন স্থানীয় সমর্থকরা। কিন্তু ভেন্যু পরিবর্তনের জোর গুঞ্জন ওঠায় দিল্লির গ্যালারিতে তাদের প্রিয় তারকার চোখ জুড়ানো কাভার ড্রাইভ উপভোগ করার সোনালী সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে।
যদিও ১৩ ডিসেম্বরের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচটি দিল্লি থেকে সরিয়ে শেষ পর্যন্ত ভারতের অন্য কোনো বিকল্প ভেন্যুতে নেওয়া হবে কি না বা কোথায় তা অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি। তা সত্ত্বেও বর্তমান বাস্তবতায় ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে জন্ম নিয়েছে নানা সংশয় ও হতাশা।
কোথায় কখন লড়বে ভারত ও শ্রীলঙ্কা : দিল্লির ভেন্যু নিয়ে যতই জটিলতা তৈরি হোক না কেন, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার আসন্ন এই দ্বিপক্ষীয় লড়াইয়ের পূর্ণাঙ্গ ও জমজমাট সূচি ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। দুই দল কেবল ওয়ানডে ফরম্যাটেই নয়, বরং তিনটি আকর্ষক টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও একে অপরের মুখোমুখি হবে:
প্রথম ওয়ানডে: ১৩ ডিসেম্বর (দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম—তবে ভেন্যু পরিবর্তনের প্রবল শঙ্কা)।
দ্বিতীয় ওয়ানডে: বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম (আইপিএলের নিলামের বিশেষ দিনটিতে মাঠে গড়াবে)।
তৃতীয় ওয়ানডে: ১৯ ডিসেম্বর, আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম।
টি-টোয়েন্টি সিরিজের হাইভোল্টেজ লড়াই:
প্রথম টি-টোয়েন্টি: ২২ ডিসেম্বর, রাজকোট।
দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি: ২৪ ডিসেম্বর, কটক।
তৃতীয় টি-টোয়েন্টি: ২৭ ডিসেম্বর, পুনে।
বছরের শেষ প্রান্তে ভারত-শ্রীলঙ্কার এই দ্বৈরথ মাঠের লড়াইয়ের উত্তাপের পাশাপাশি ভেন্যু সংকট আর সংস্কারের মারপ্যাচে এক চরম নাটকীয় মোড় নিয়েছে।
সান নিউজ / রাজীব
