পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চকে কেন্দ্র করে বাগেরহাটের কাটাখালী মোড় এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেছেন জোটের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা এবং আশপাশের এলাকা থেকে ছোট-বড় মিছিল নিয়ে কাটাখালী মোড়ে সমবেত হচ্ছেন তারা। পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর কর্মচাঞ্চল্য।
লংমার্চের গাড়িবহরকে স্বাগত জানাতে খুলনা-ঢাকা মহাসড়কের ফকিরহাট অংশের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছেন নারী কর্মীরা। ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় পতাকা হাতে তাদের উপস্থিতিতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে অভ্যর্থনার পরিবেশ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, লংমার্চের কেন্দ্রীয় নেতাদের স্বাগত জানাতে কাটাখালী মোড়ে অস্থায়ী সভামঞ্চ ও অভ্যর্থনা বুথ প্রস্তুত করা হয়েছে। ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় পতাকায় সাজানো হয়েছে আশপাশের এলাকা। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মীদের উপস্থিতিও বাড়ছে। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কাটাখালী ও খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
বাগেরহাট জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা অ্যাডভোকেট আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে। কাটাখালীতে পৌঁছে সংক্ষিপ্ত পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। পথসভা শেষে লংমার্চের গাড়িবহর পরবর্তী নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করবে।
তিনি আরও বলেন, এটি ক্ষমতা দখলের আন্দোলন নয়; বরং জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি। খুলনা, কুষ্টিয়াসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা, আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো এ কর্মসূচিতে তুলে ধরা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের দাবিগুলো আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করাই তাদের লক্ষ্য।
দলীয় নেতারা জানান, ঢাকা, খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে লংমার্চ সফল করতে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে কর্মসূচিটি সম্পন্ন হবে।
এদিকে বাগেরহাটকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতি, যোগাযোগ ও পর্যটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জেলা হিসেবে উল্লেখ করে ১১ দলীয় জোটের নেতারা বলেন, মোংলা বন্দর ও সুন্দরবনকেন্দ্রিক সম্ভাবনা, আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা, কৃষক ও মৎস্যজীবীদের ন্যায্য অধিকার এবং দীর্ঘদিনের উন্নয়নবঞ্চনার বিষয়গুলো কাটাখালীর পথসভায় তুলে ধরা হবে।
লংমার্চ ও পথসভাকে কেন্দ্র করে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশ ও দলীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা। কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছেন।
সব মিলিয়ে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই বাগেরহাটের কাটাখালী মোড় ও আশপাশের এলাকায় রাজনৈতিক কর্মচাঞ্চল্য দেখা গেছে।
সাননিউজ/বান্না
