এক নজরে রিউ মুরাকামি ও তার সাহিত্যিক অবদান
জন্ম ও মৃত্যু: ৭৪ বছর বয়সে নিজ বাসভবনে জীবনাবসান (মৃত্যুর খবর প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর, ২০২৬)।
সাহিত্যিক ধারা: সমাজের অন্ধকার দিক, যৌনতা, সহিংসতা এবং আধুনিক যুবসমাজের বিচ্ছিন্ন জীবনের সাহসী চিত্রায়ন।
প্রথম ও বিখ্যাত উপন্যাস: ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত ‘অলমোস্ট ট্রান্সপারেন্ট ব্লু’ (এই উপন্যাসের জন্য জাপানের মর্যাদাপূর্ণ ‘আকুতগাওয়া পুরস্কার’ অর্জন)।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি: ‘কয়েন লকার বেবিজ’ (১৯৮০) এবং ‘ইন দ্য মিসো সুপ’ (১৯৯৭)।
বিশেষত্ব: রিউ মুরাকামির অনেক জনপ্রিয় উপন্যাস পরবর্তীতে সফলভাবে চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়েছে; তিনি ছিলেন জাপানি আধুনিক সাহিত্যের অন্যতম প্রভাবশালী ও বিদ্রোহী কণ্ঠস্বর।
জাপানি আধুনিক সাহিত্য ধারার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ, খ্যাতিমান ও প্রাবন্ধিক ঔপন্যাসিক রিউ মুরাকামি আর নেই। চৌাত্তর বছর বয়সে নিজ বাসভবনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন এই প্রখ্যাত লেখক। গতকাল শুক্রবার তার দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘জেনতোশা’ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে রিউ মুরাকামির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
প্রকাশনা সংস্থার পক্ষ থেকে শোকবার্তায় জানানো হয়, বিশ্বসাহিত্যের আঙিনায় যে লেখক আজীবন তার তারুণ্যদীপ্ত, সাহসী এবং চমকপ্রদ লেখার মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করে গেছেন, তার আকস্মিক প্রয়াণে পুরো সাহিত্যজগৎ গভীর শোকে স্তব্ধ। নিজের জীবনকে সবসময় শতভাগ উপভোগ করা এবং প্রচলিত প্রথার বিরুদ্ধে স্রোতের বিপরীতে চলা এই লেখক যুগান্তকারী সাহিত্যিকদের পথপ্রদর্শক হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
জাপানি সাহিত্যে প্রচলিত গতানুগতিক ধারা ভেঙে রিউ মুরাকামি সবসময় মানুষের অন্ধত্ব, যৌনতার অন্ধকার দিক, নির্মম সহিংসতা এবং আধুনিক যুবসমাজের বিচ্ছিন্ন জীবনের বাস্তব চিত্র অত্যন্ত নিপুণভাবে তুলে ধরেছেন। রিউ মুরাকামির সাহিত্যকর্মে সমাজের গ্লানি ও ক্ষয়ে যাওয়া দিকগুলো নির্মম সত্যের আলোয় প্রতিফলিত হতো।
১৯৭৬ সালে প্রকাশিত তার প্রথম উপন্যাস ‘অলমোস্ট ট্রান্সপারেন্ট ব্লু’ জাপানি সাহিত্য মহলে এক বিশাল ভূকম্পন সৃষ্টি করেছিল। মাদকাসক্তি ও কামনার অতল গহ্বরে হারিয়ে যাওয়া তরুণ প্রজন্মের নৈতিক স্খলন ও বিপন্নতার হৃদয়বিদারক রূপ ফুটিয়ে তোলার জন্য এই বইটির সুবাদে তিনি দেশটির অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ‘আকুতগাওয়া পুরস্কার’ অর্জন করেন। এর মধ্য দিয়েই বিশ্বমঞ্চে একজন ব্যতিক্রমী ও শক্তিশালী কথাসাহিত্যিক হিসেবে নিজের অবস্থান শক্ত করেন তিনি।
এরপর ১৯৮০ সালে আত্মপ্রকাশ করে তার অপর মাস্টারপিস উপন্যাস ‘কয়েন লকার বেবিজ’। রেলস্টেশনের লাগেজ লকারে নবাগত শিশুদের ফেলে যাওয়ার মতো নির্মম এক বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে বেঁচে থাকার নিষ্ঠুর সংগ্রামের গল্প বয়ন করেছিলেন তিনি, যা সেই সময়ে পাঠকদের মধ্যে তীব্র আলোচনার জন্ম দেয়।
পরবর্তী সময়ে ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত তার থ্রিলারধর্মী উপন্যাস ‘ইন দ্য মিসো সুপ’ টোকিওর জমজমাট রেড লাইট এলাকার অন্ধকার জগতের এক পর্যটকের রোমহর্ষক ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার পটভূমিতে রচিত হয়েছিল। শুধু কথাসাহিত্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মুরাকামির বহু জনপ্রিয় উপন্যাস পরবর্তীতে বড় পর্দায় সেলুলয়েডের ফিতাতেও রূপায়িত হয়েছে, যা চলচ্চিত্রপ্রেমীদেরও মুগ্ধ করেছিল।
রিউ মুরাকামির প্রয়াণে কেবল জাপান নয়, বরং বিশ্বজুড়ে তার অগণিত পাঠক ও সাহিত্যবোদ্ধাদের মনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রিউ মুরাকামির বিদায়ে জাপানি সাহিত্যের একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী ও আপসহীন বিদ্রোহের অধ্যায়ের ইতি ঘটল।
সান নিউজ / রাজীব
