প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর ক্ষমতা গ্রহণের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) শহরটিতে ৯ হাজার ৫০০-এর বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাকার্তা পুলিশের মুখপাত্র বুদি হারমান্তো।
সম্প্রতি এক জনমত জরিপে প্রেসিডেন্ট প্রাবোওর জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়ার পর নতুন করে বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বুদি হারমান্তো জানান, অন্তত দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করার পরিকল্পনা করেছেন। এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব ইন্দোনেশিয়ার শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে সাম্প্রতিক দাবানল, শেয়ারবাজারের দরপতন এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হবে। তাদের মতে, শেয়ারবাজারের পতন ও ইন্দোনেশীয় রুপিয়ার দর কমে যাওয়া দেশটির অর্থনীতির দুর্বলতারই ইঙ্গিত দেয়।
তবে এসব কর্মসূচিতে কতজন শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও জলবায়ু সংকটের প্রতিবাদে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও কর্মসূচি পালন করছে। পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস মঙ্গলবার জাকার্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিস্তম্ভে ব্যানার ঝুলিয়ে প্রতিবাদ জানায়। ব্যানারে লেখা ছিল, ‘জলবায়ু সংকট মোকাবিলা করুন, জীবনযাত্রার ব্যয় কমান।’
২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা প্রাবোও সুবিয়ান্তো। নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ী হলেও বর্তমানে তাকে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তার উচ্চাভিলাষী বিভিন্ন কর্মসূচির অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিরোধীদের পাশাপাশি তার সমর্থকদের একাংশের মধ্যেও এসব নীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ইন্দোনেশিয়ার জরিপ সংস্থা সাইফুল মুজানি রিসার্চ অ্যান্ড কনসাল্টিংয়ের (এসএমআরসি) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের শেষ দিক থেকে প্রাবোওর প্রতি জনসমর্থন কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গত বছরের নভেম্বরে তার অনুমোদনের হার ছিল ৮১ দশমিক ২ শতাংশ। তবে চলতি অক্টোবরের জরিপে তা কমে ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, এটিই তার সর্বনিম্ন অনুমোদনের হার।
এর আগে গত আগস্টেও ইন্দোনেশিয়ায় বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছিল। সে সময় কয়েক শ মানুষকে আটক করা হয়।
এ ছাড়া ২০২৫ সালে পুলিশের হাতে এক মোটরসাইকেল ট্যাক্সিচালক নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময়ের সহিংসতায় বেশ কয়েকজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়।
সাম্প্রতিক বিক্ষোভের কর্মসূচি এবং জনসমর্থন কমে যাওয়ার ইঙ্গিতের মধ্যে প্রেসিডেন্ট প্রাবোওর সরকারের সামনে এখন অর্থনৈতিক উদ্বেগ মোকাবিলা ও জনআস্থা পুনরুদ্ধার গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সান নিউজ/ রাব্বি
